দেশে উচ্চ রক্তচাপ নীরব মহামারির মধ্যে রয়েছে। প্রতি চার জনে এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০২২’ সালের তথ্যে এ কথা জানানো হয়েছে। তবে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে মাত্র ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে আক্রান্তদের মধ্যে ৫১ শতাংশ মানুষ জানেন না যে, তারা এই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। যারা রোগটির বিষয়ে অবগত, তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশ ওষুধ সেবন করেন না। ফলে বর্তমানের এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ লক্ষ্যে উচ্চ রক্তচাপ মোকাবিলায় সরকার অতিসমপ্রতি কমিউনিটি ক্লিনিকের তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করতে এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা অতি প্রয়োজন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় জানানো হয়, কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা এক্ষেত্রে কার্যকরী এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) এর লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, দেশের ১৫ হাজার ২৫০ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চ রক্তচাপের ও ডায়াবেটিসের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এই কার্যক্রম শুরু হলে দেশে উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ কমে আসবে। রোগী চিকিৎসক কর্তৃক উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করে প্রেসক্রিপশনে লিখিত ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিক সরবরাহ করবে।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিকেবল ড. মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস, এনটিভির হেড অব নিউজ অ্যান্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স জহিরুল আলম এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের হাইপারটেনশন কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. শামীম জুবায়ের এবং প্রজ্ঞার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়ক সাদিয়া গালিবা প্রভা।