কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের ৩০ জুন। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার ২৯ মাস পর ২০১৭ সালের ১৭ মে চালু করলেও জনবল সংকটের কারণে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারটি।
নিকলী আবহাওয়া অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নিকলী উপজেলা অফিসের পাশেই ২ একর জায়গা জুড়ে নিকলী আবহাওয়া অফিস। অফিসের ভিতরে প্রবেশ করলেই দুই তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। এ ভবনের ভেতরে আবহাওয়া অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম হওয়ার কথা, কিন্তু বর্তমানে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই।
এ ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে ৩টি যন্ত্র (বাতাসের গতি পরিমাপক যন্ত্র, বাতাসের দিক নির্ণয় যন্ত্র এবং সান শাইন রেকর্ডার)। নিকলী আবহাওয়া অফিস পরিচালনার জন্য পদ রয়েছে ৮টি। কিন্তু এখানে সিনিয়র অবজারভার পদে রয়েছেন একজন, টেলি প্রিন্টার সুপার পদে একজন ও নিরাপত্তা কর্মী পদে রয়েছেন একজন। বাকি ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো খালি রয়েছে। এছাড়াও নেই কেয়ারটেকার, নেই গেটমেন।
নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ উপজেলার মধ্যে চার উপজেলা (নিকলী-অষ্টগ্রাম-মিঠাইন-ইটনা) হাওর এলাকা। এসব উপজেলার আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আবহাওয়ার তথ্য আদান-প্রদান করতে হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলাসহ চার উপজেলার শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ লোক বর্ষাকালে হাওরের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এসময় ঝড়-বৃষ্টি হলে হাওরে ঢেউ থাকে বেশি। প্রচণ্ড ঢেউয়ে অনেক সময় জেলে নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিকলীতে আবহাওয়া অফিস থাকলেও জনবল সংকটের কারণে এটি পুরোপুরি চালু না হওয়ায় এলাকাবাসী আবহাওয়া পূর্বাভাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে অফিসটি চালুর দাবি জানান।
নিকলী উপজেলার আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার ফারুক বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে ২৯ মাস আগে তারা এ পর্যাবেক্ষণাগারটি বুঝে নেন। এরপর জনবল না থাকায় কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপন করেও অফিসটি তারা চালু করতে পারছিল না। ২০১৭ সালের ১৭ মে চালু হলেও জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, তবে এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিকলীর আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারটি পুরোপুরি চালু করা যাবে বলে আশা করছি।