প্রচণ্ড দাবদাহে বিপাকে পড়েছে পশ্চিমের জেলাগুলোর চাষিরা। বৃষ্টিহীন আষাঢ়, পশ্চিমের জেলাগুলোতে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আমনের বীজতলা তৈরির ভরা মৌসুম চললেও বৃষ্টির অভাবে চাষিরা বীজতলা তৈরি করতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় চার লাখ ৫৬ হাজার ১২৪ হেক্টরে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। আমন চাষে বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত পানির প্রয়োজন হয়। বৃষ্টির অভাবে বীজতলা তৈরি করতে পারছে না। আবার সেচের পানিতে বীজতলা তৈরি করলে খরচ বেশি হবে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের চাষি আব্দুল মজিদ বলেন, এবার আট বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করবেন। বীজ কিনে বসে আছেন। বৃষ্টির অভাবে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। মাঝে মধ্যে ছিটে ফোঁটা বৃষ্টি হলেও পানি জমছে না। তাদের এলাকা জিকে প্রকল্পের অধীন। কিন্তু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বোরো মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহ করেনি। আমন মৌসুমেও পানি দিচ্ছে না। এমনিতেই ধান চাষে লাভ থাকে না। তারপর সেচের পানি কিনে চাষ করলে লোকসান হবে। অপরদিকে আউশ ধান চাষও পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে ধান গাছের বাড়ন্ত থেমে গেছে। শীষ বের হতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক সমির কুমার গোস্বামী বলেন, বৃষ্টির অভাবে সব ধরনের গ্রীষ্মকালীন ফসলের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এ মৌসুমে সব ফসল বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখনো মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়নি। বৃহস্পতিবারের পর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে ঘাম ঝরছে।