গোপালগঞ্জের টেকেরহাট বাফার স্টক গোডাউন থেকে জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার ক্রাস করে ২ জেলার ডিলারের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ সার ইট ক্রাস করা মেশিনে ক্রাস করায় পাউডার হয়ে যাচ্ছে। আবার কখনো কখনো বড় বড় চাকা থেকে যাচ্ছে। কৃষক এ সার নিয়ে জমিতে ব্যবহার করতে পারছেন না। তারা ডিলারের কাছ থেকে এ সার ক্রয় করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ সার বিক্রি করতে না পেরে ডিলাররা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ বাফার স্টক গোডাউনের ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা বলেন, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলায় প্রতি বছর ৪০ হাজার ৬ শ’ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এ গোডাউন থেকে দু’ জেলার ১৩৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সরবরাহ করা হয়। পাঁচ বছর আগে এ গোডাউনে ৯ শ’ মেট্রিক টন ইউরিয়া মজুদ ছিল। এ সার জমাট বেঁধে গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ক্রাস মেসিনে এ সার ক্রাস করে পুনরায় প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ডিলারের কাছে প্রতি চালানে ১০ টন করে ইউরিয়া সরবরাহ করার সময় পুনরায় প্যাকেটজাত ইউরিয়া ১ টন দেয়া হচ্ছে। এ সার গুণগত মানসম্পন্ন। এ সার কৃষকের ব্যবহার উপযোগী।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক ঝন্টু বিশ্বাস বলেন, ইউরিয়া সার সাধারণত দানা আকারে পাওয়া যায়। কিন্তু পাউডারের মতো ইউরিয়া সার সরবরাহ করছে ডিলার। এ সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে গেলে উড়ে যায়। কখনো কখনো এ সারের মধ্যে বড় বড় দলা পাওয়া যাচ্ছে। এ দলা আমাদের কোনো কাজে আসছে না। তাই আমরা ডিলারের কাছ থেকে এ সার কেনা বন্ধ করে দিয়েছি।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সার ডিলার কাজল বিশ্বাস বলেন, বাফার স্টক গোডাউন থেকে ১০ টন ইউরিয়ায় ১ টন পুনরায় প্যাকেটজাত ইউরিয়া সার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সার আমরা কৃষকের কাছে বিক্রি করতে পারছি না। ফলে অবিক্রীত অবস্থায় রয়ে যাচ্ছে।
গোপালগঞ্জ সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফখরুল ইসলাম বলেন, এক ট্রাক সার বিক্রি করলে আমাদের সর্বসাকুল্যে ৮ হাজার টাকা লাভ হয়। সার সরবরাহের সময় ১ টন পুনরায় প্যাকেটজাত সার আমাদের দেওয়া হচ্ছে। ১৮ হাজার টাকা মূল্যের এ সার আমরা বিক্রি করতে পারছি না। কৃষক নিচ্ছে না। গোডাউন থেকে যাচ্ছে। ফলে অবিক্রীত সার নিয়ে আমাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বাফার স্টক গোডাউনের শ্রমিক সবিতা, মনোহর বলেন, সারগুলো বস্তার মধ্যে জমে পাথর হয়ে গেছে। প্রথমে প্লাস্টিকের ব্যাগ কেটে জমাট বাঁধা সারের খণ্ড বের করা হয়। তারপর হ্যামার দিয়ে ভেঙে সারের বড় বড় দলা ইটভাঙা ক্রাস মেশিনে দেওয়া হয়। এতে সার পাউডারে পরিণত হয়। এ ছাড়া সারের মধ্যে বড় বড় দলাও থেকে যাচ্ছে। সব শেষে নতুন বস্তায় এ সার প্যাকেট করা হয়।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ সারের গুণাগুণ নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে।