প্রবাসী নারীকে তিনদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক কারাগারে

ফেনীর সোনাগাজীতে আমেরিকা প্রবাসী এক নারীকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মহিন উদ্দিন রাজু (৩৫) নামে একজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শনিবার (২২ জুলাই) বিকালে অভিযুক্ত রাজুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা করেন।

অভিযুক্ত মহিন উদ্দিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজ এলাকার আবদুস শুক্কুরের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই অভিযুক্ত রাজু ও তার দুই সহযোগী সোনাগাজী রাস্তার ওপর থেকে ভুক্তভোগীকে প্রাইভেটকারে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে ফেনী শহরের একটি বাসায় তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী দেশে ফিরলে শুক্রবার সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী বলেন, আমেরিকায় থাকাকালীন রাজু তাকে নানাভাবে বিরক্ত করতেন। দেশে ফিরে গত ৮ জুলাই ফেনীর ট্রাংক রোডে ডাক্তার দেখাতে গেলে অভিযুক্ত রাজু পথ আগলে কথা আছে বলে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকজন লোক আগে থেকে বসা ছিল। তাদের একজন নিজেকে অ্যাডভোকেট পরিচয় দিয়ে আগে থেকে তৈরি করা অ্যাফিডেভিটে স্বাক্ষর করতে বলে। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে রাজু ছুরি বের করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে ভয়ে চারটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। সেই কাগজপত্র দিয়ে বিয়ের ডকুমেন্টস তৈরি করা হয়।

অভিযুক্ত রাজু বলেন, আমেরিকা প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে সে (ভুক্তভোগী) আমার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। তার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরও সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে তার স্বামী তাকে নির্যাতন করে বলে কান্নাকাটি করেছে। তার স্বামীকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি তার সঙ্গে বিয়েতে রাজি হই। আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার টাকা চাইলে আমি তাকে কয়েক দফায় ১৭ লাখ টাকা দেয়। এছাড়া বাড়ি থেকে আমার প্রথম স্ত্রীর ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার তাকে উপহার দিয়েছি।

রাজু আরও বলেন, গত বছর আগস্টে নোটারি পাবলিক ও ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মোমেনা  স্বামীকে তালাক দেয়। ৮ জুলাই আমরা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট করার পর কাবিনে স্বাক্ষর করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তার সাবেক স্বামী ও দুই ভাই তাকে জিম্মি করে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. খালেদ হোসেন বলেন, অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে ধর্ষণ মামলায় শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।