দ্বিতীয় বিয়ের পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহৃত যুবক, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ২২:২১

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে র‍্যাব-১০-এর কেরানীগঞ্জ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির ল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।

র‍্যাব জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুন্দর আলী (৪৬)-এর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গত ১৯ জুলাই বিকেলে গোলাম বাজার থেকে কোনাখোলা হয়ে রামেরকান্দা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসের নেতৃত্বে চারজন তার অটোরিকশার গতিরোধ করে।

এরপর তাকে মারধর করে জোরপূর্বক অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা পাঠাতে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, রাত প্রায় ২টার দিকে অপহরণকারীরা সুন্দর আলীকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় রাকিবের ভাড়া বাসায় নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার মুক্তিপণের টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার প্রথমে একটি নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা পাঠায়। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে আরও ৩৯ হাজার টাকা অপহরণকারীদের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তবুও সুন্দর আলীকে আটকে রাখা হয়।

পরে উপায়ান্তর না পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বজন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে র‍্যাব-১০-এর কাছেও তাকে উদ্ধারের আবেদন জানান। অভিযোগের পর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুলাই দুপুরে শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের ল-অফিসার সোনালী সেন জানান, গ্রেপ্তার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। জুয়েল রানার বিরুদ্ধে রয়েছে পাঁচটি মাদক মামলা। রাকিবের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা এবং অপু মীর ওরফে বায়জিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৪টি মামলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 
ইত্তেফাক/এমএস