ঘরের মাঠে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত দল নিয়ে টুর্নামেন্টের ফেভারিটও ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে এসে টানা দুই হারে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল খেলাই এখন হুমকির মুখে। শ্রীলঙ্কার পর গতকাল লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬৪ রানে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করল গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। সাত ম্যাচে ছয়টি জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে এখন অজিরা। সমান সংখ্যক ম্যাচে ইংল্যান্ডের এটি তৃতীয় হার।
গতকালকের হারে কঠিন সমীকরণের মুখে পড়ে গেল ইয়ন মরগানের দল। সেমিতে খেলতে হলে লিগ পর্বে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জিততেই হবে ইংল্যান্ডকে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত ও নিউজিল্যান্ড। অবশ্য গতকাল লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে খুশি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কারণ ইংলিশদের হারে টাইগারদের শেষ চারে খেলার স্বপ্নটা টিকে থাকছে। গতকাল অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরিতে সাত উইকেটে ২৮৫ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৪৪.৪ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। সেঞ্চুরিয়ান ফিঞ্চ ম্যাচ সেরা হন।
রান তাড়া করতে নামা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনকে দাঁড়াতেই দেননি অস্ট্রেলিয়ান দুই ফাস্ট বোলার বেহরেনডর্ফ ও মিচেল স্টার্ক। দুই বাঁহাতি পেসার নিয়েছেন ৯ উইকেট। বেহরেনডর্ফ ৪৪ রানে ৫টি, স্টার্ক ৪৩ রানে ৪টি উইকেট নেন। শুরুতে ৫৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়েছেন জেমস ভিন্স (০)। পরে জো রুট (৮), অধিনায়ক মরগান (৪) ও জনি বেয়ারস্টো (২৭) সাজঘরে ফিরেন। পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন জস বাটলার ও স্টোকস। তাদের ৭১ রানের জুটি ভাঙে বাটলার আউট হলে। তিনি ২৫ রান করেন। একপ্রান্ত আগলে লড়াই করে গেছেন স্টোকস। ৩৭তম ওভারের শেষ বলে স্টোকসকে বোল্ড করেন স্টার্ক। স্টোকস ৮৯ রান করেন। পরে স্টার্ক-বেহরেনডর্ফ স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের লেজটা মুড়ে দিয়েছেন। ক্রিস ওকসের ২৬, আদিল রশিদের ২৫ রান শুধু ইংলিশদের হারের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছে।
এর আগে ওপেনিংয়ে ১২৩ রানের জুটিতে টসে হেরে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়াকে বড় রানের ভীত গড়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার। ২৩তম ওভারে ইংল্যান্ডকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মঈন আলী। ওয়ার্নার ৫৩ রান করে আউট হন। উইকেটে স্থায়ী হননি উসমান খাজা (২৩)। ১১৫ বলে ক্যারিয়ারের ১৫তম ও এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিঞ্চ। দলীয় ১৮৫ রানে আর্চারের শিকার হন অজি অধিনায়ক। ১১৬ বলে ১০০ রান (১১ চার, ২ ছয়) করেন তিনি।
সাত ম্যাচে ৪৯৬ রান করে ফিঞ্চ এখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শীর্ষে আছেন ৫০০ রান করা ওয়ার্নার। ফিঞ্চের বিদায়ের পর ম্যাক্সওয়েল (১২), স্টয়নিস (৮) দ্রুত ফিরলে ২২৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। তখনই তাদের রানের চাকা কিছুটা কক্ষচ্যুত হয়। তারপরও স্মিথের ৩৮ এবং শেষ দিকে অ্যালেক্স ক্যারির ২৭ বলে অপরাজিত ৩৮ রানে লড়াকু পুঁজি গড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস দুটি, আর্চার, উড, স্টোকস, মঈন আলী একটি করে উইকেট নেন।