ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে ঘুমন্ত লিটন ঘোষ নামের এক ব্যক্তির শরীর থেকে মাথা কেটে ব্যাগে ভরে থানায় গিয়ে হাজির হয়েছেন লঘু দাস নামে এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার দুপুরে নাসিরনগর উপজেলা সদরের গৌর মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত লিটন ঘোষ কুলিয়ারচরের মতিলাল ঘোষের ছেলে। পুলিশ জানায়, লঘু দাস মানসিক রোগী। সে উপজেলা সদরের পশ্চিম পাড়ার মৃত পরমানন্দ দাসের ছেলে। নাসিরনগর থানার ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন জানান, লিটন দাস বোনের বাড়িতে এসেছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে পার্শ্ববর্তী গৌরমন্দিরের নাট মন্দিরে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় মানসিক প্রতিবন্ধী লঘু দাস একটি ধারালো দা দিয়ে লিটন ঘোষের মাথা শরীর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেন। পরে সেই মাথা ব্যাগে ভরে নাসিরনগর থানায় হাজির হয় লঘু দাস। এ সময় মাথাসহ তাকে আটক করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান (বার পিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. রাফিউদ্দিন আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসী জানায়, লঘু দাস বাজারে ঘোরাঘুরি ও নেশা করত। বাজারের লোকজনের নানা ফরমায়েশ খাটত।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি এই লঘু দাসের হাতে খুন হন নাসিরনগর উপজেলা সদরের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকনাথ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মতিলাল দাস।