বাংলাদেশে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে বাড়ছে প্রসূতির অস্ত্রোপচার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এর এমন একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এতে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক কেবলমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ রিটের ওপর আজ বুধবার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
গত ২১ জুন বিবিসি বাংলাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে বাংলাদেশে গত দুই বছরে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে সিজারিয়ানের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ। বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, এতে বাবা-মায়েদের সন্তান জন্মদানে বিপুল পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। তাছাড়া সিজারিয়ানে সন্তান জন্মদানে রয়েছে বহু রকমের ঝুঁকি। সংস্থাটি বলছে, মা ও শিশু উভয়কেই ঝুঁকিতে ফেলে সিজারিয়ান। ২০১৮ সালে যত সিজারিয়ান হয়েছে, তার ৭৭ শতাংশই চিকিত্সাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিল। এতে আরো বলা হয়, ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার ৪ থেকে ৩১ শতাংশ বেড়েছে। প্রসবকালীন এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ঠেকাতে ডাক্তারদের ওপর সরকারের নজরদারির পরামর্শ দিয়েছে। এমন প্রবণতার জন্য সংস্থাটি আংশিকভাবে বাংলাদেশের চিকিত্সাসেবা খাতের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে। সংস্থাটি বলেছে, অসাধু চিকিত্সক, হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের কাছে সিজারিয়ান একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’। কেবল বাড়তি টাকা আদায় করার লক্ষ্যে মা হতে যাওয়া একজন নারীর শরীর অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাটাকুটি করে তাঁর ভবিষ্যেকই কষ্টদায়ক করে তোলার কুিসত অপচেষ্টা ঠেকানোর জন্য এর বিরুদ্ধে রিট করা হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়, সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে শুধুমাত্র মুনাফার আশায় অপ্রয়োজনীয় প্রসবজনিত অস্ত্রোপচার আমাদের দেশের খুবই সাধারণ প্রবণতা। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।