বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে বড় দুইটি অভিযানের প্রথমটি, এশিয়া কাপ। যা শুরু হতে সময় আছে আর এক মাস। আর অপরটি হচ্ছে ১৩তম ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এটা শুরু হতে সময় আছে দুই মাসের একটু বেশি। টাইগাররা যেহেতু ওয়ানডে ফরম্যাটে তুলনামূলক শক্তিশালী দল আর সম্প্রতি এ ফরম্যাটে দারুণ ছন্দেও রয়েছে তাই এই দুই টুর্নামেন্টকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে তারা। তবে এই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে রয়েছে টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের পিঠের চোট। ধারণা করা হচ্ছিল, এ চোট থেকে সারতে প্রয়োজন হতে পারে অস্ত্রোপচারের তবে আপাতত তা লাগছে না বিকল্প হিসেবে ইনজেকশন নিয়েছেন তিনি।
চলতি মাসে অভিজ্ঞ এ ওপেনারকে নিয়ে বেশ নাটকীয়তাই হয়ে গেছে ক্রিকেটাঙ্গনে। গেল ৫ জুলাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার পরদিন হুট করেই ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দেন তামিম ইকবাল। এরপর প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আবার ফিরে আসেন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী তামিমের পিঠের চোট সাড়াতে ছুটি প্রদান করেন। সেই লক্ষ্যেই ওয়ানডে অধিনায়ক বর্তমানে রয়েছেন লন্ডনে এবং স্থানীয় সময় গেল বৃস্পতিবার সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পিঠের নিচের দিকের দুটি অংশে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এখন দুইদিন পর্যবেক্ষণে থাকবেন তিনি। যদি ইনজেকশন সফলভাবে কাজ করে। তাহলে ফিটনেস ট্রেইনিংয়ে ফিরতে পারবেন তিনি, পরবর্তীতে অনুশীলনেও যোগ দিতে পারবেন।
জানা গেছে, তামিমের পিঠের ব্যাথা অনুভূত হওয়ার স্থানে তিন থেকে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। সেইসময় বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশিষ চৌধুরি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অধিনায়ককে দেওয়া এই ইনজেকশন সাধারণত স্নায়ুকে নিস্তেজ করে রাখে একটি নির্দিষ্ট সময়। তবে সেই সময়টা কতদিন, সেটির নিশ্চয়তা দিতে পারেন না চিকিত্সকরাও। কারণ এটি কারও ক্ষেত্রে ইনজেকশনের কার্যকারিতা ২-৩ মাস থেকে শুরু করে ৪-৫ মাস পর্যন্ত থাকে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার এক মাসের মধ্যেও ব্যথা ফিরে আসে। এর আগেও এই ইনজেকশন নিয়েছিলেন তামিম সেসময় তিন মাসের মতো সময় মোটামুটি নির্বিঘ্নে খেলতে পেরেছিলেন তিনি।
এর আগে টাইগার ওয়ানডে অধিনায়ককে এই পিঠের ব্যথা ভোগাচ্ছে গেল বছরের নভেম্বর মাস থেকে। সেই সময় ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর ড্রেসিং রুমে গিয়ে তিনি অনুভব করেন এটির অস্তিত্ব। এরপর ঘরের মাঠে তাদের বিপক্ষে গোটা সিরিজেই আর নামতে পারেননি দলের এই অভিজ্ঞ ব্যটার। পরে চলতি বছরের শুরুতে বিপিএল দিয়ে মাঠে ফিরলেও টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আবার ব্যথা মাথাচাড়া দিতে থাকে। তবে মার্চে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ ও মে মাসে ইংল্যান্ড সফরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে খেলেন টানা। কিন্তু ব্যথা ফিরে আসায় গত মাসে খেলতে পারেননি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে।
এর আগে গেল মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়ে পিঠের চোট নিয়ে সেখানকার দুজন বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছিলেন ওয়ানডে অধিনায়ক। তখন তার পিঠের নিচের অংশে স্ক্যান করানো হয়েছিল। কিন্তু বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ থেকে তখন বলা হয়েছিল, স্ক্যানে কিছু ধরা পড়েনি। স্বাভাবিকই রয়েছেন তিনি, তবে পরে সেই স্ক্যান রিপোর্ট দেখেই পরে ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ টনি হ্যামন্ড নিশ্চিত করেন যে, এই ব্যাটসম্যানের পিঠের নিচের অংশের ডিস্কে কিছুটা ক্ষয় ধরেছে।