২০ লাখ টাকার রসুন নিয়ে ট্রাক উধাও

২০ লাখ টাকার সাত টন রসুনবোঝাই একটি ট্রাকের খোঁজ মিলছে না। গুরুদাসপুরের নয়াবাজার হাট থেকে বুধবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ট্রাকটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ওই ট্রাকে আট ব্যবসায়ীর প্রায় ৭ টন রসুন ছিল। 

চারদিনেও রসুন উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের একজন ময়নুল হক জানান, সপ্তাহের বুধবার উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজারে হাট বসে। বুধবার এই হাট থেকে তিনি  এক টন রসুন এক লাখ ৯৩ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এদিন বিকাল ৪টার দিকে ঢাকার আড়তে রসুন পরিবহনের জন্য ট্রাকের মধ্যস্থতাকারী হারুনের হাতে মেসার্স রহিমা এন্টারপ্রাইজের নামে চালান তুলে দেন। 

ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য, একই হাট থেকে তার মতো ব্যবসায়ী নয়ন ইসলাম , আরব আলী, মিলন হোসেন, আব্দুল হান্নান, সুজন আলী ব্যবসায়ীর কম বেশি রসুন ঢাকার অপরিচিত একটি ট্রাকে লোড করা হয়। এছাড়া পাশ্ববর্তী নাদোসৈয়দপুর বাজার থেকে ব্যবসায়ী রফিকের চার লাখ টাকা মূল্যের দুই টন, সুজন আলীর ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের ৫০০ কেজি এবং ঢাকার ব্যাপারী ইরফান মুন্সির এক লাখ টাকা মূল্যের ৫৬০ কেজি রসুন লোড করা হয়েছিল।

শনিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ট্রাকের মধ্যস্থতাকারী হারুণ জানান, নয়াবাজার এবং নাদোসৈয়দপুর বাজার থেকে প্রায় সাত টন রসুন ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইবেল ও কোনাবাড়ি আড়তে পৌঁছানার জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে ট্রাকটি ভাড়া করেছিলেন তিনি। ট্রাকের চালক সুমন আলীর সঙ্গে তিনি বুধবার রাতে ও সবশেষ বৃহস্পতিবার সকালে কথা বলেন এবং চালক টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে থাকার কথা জানান। এরপর থেকে চালকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি গুরুদাসপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নয়ন আলী, আব্দুল হান্নান, রফিক হোসেনের দাবি, চারদিনেও রসুন উদ্ধার না হওয়ায় তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। হারিয়ে যাওয়া রসুনে টাকা আটকে থাকায় তারা আর প্রয়োজন মতো রসুন কিনতে পারছেন না। 

গুরুদাসপুর থানার ওসি মনোয়ারুজ্জামান জানান, ট্রাকের মধ্যস্থতাকারী হারুন থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।