বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

মো. নাসির উদ্দিন

প্রধান শিক্ষক

ঝাটিবুনিয়া জে. আর বালিকা বিদ্যালয়, পটুয়াখালী

 

 

 

 

 

 

“মোদের গরব মোদের আশা

  আমরি বাংলা ভাষা। ‘’

হ্যাঁ বন্ধুরা ঠিক তাই। যুগে যুগে, কালে কালে বাংলা ভাষার কদর বাড়ছে বৈ কমছে না। সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আশাকরি তোমরা ভালো আছো।

বাংলা এমন একটি ভাষা যে ভাষা বিদেশিরা সহজে বলতে বা উচ্চারণ করতে পারেন না। অথচ আমরা সহজেই ইংরেজি ভাষা অবলীলায় নিজেদের প্রয়োজনে আয়ত্ত করে থাকি। তাহলে ভেবে দেখো আমরা কত ভাগ্যবান!

গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাষার উপকরণ। নানি- দাদি,মামা-মামী, ফুফা-ফুফু, কাকা-কাকির মুখের ভাষা শুনলেও আমরা তা কিছুটা আঁঁচ করতে পারি। আশাকরি তোমরাই ভবিষ্যতে এসব উপকরণ সংগ্রহে এবং রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হবে।

আমরা আগেই জানি যে বানান ভুল আমরা কয়েকভাবে করে থাকি। জেনে, না জেনে, অমনোযোগিতায়  অথবা টাইপ করতে গিয়ে। আমরা মায়ের ভাষা লিখতে গিয়ে অনেকে সচেতনতা অবলম্বন করলেও তা অনেক সময় ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানেই  সীমাবদ্ধ থাকে কিন্তু আসলে এতেই কি আমাদের দায় শেষ হয়ে যায়!

আমরা বাংলা ভাষা লেখার ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম উচ্চারিত যে বর্ণ জোড় রয়েছে তাদের মধ্যে র ও ড়, ন ও ণ, স ও শ, শ ও ষ, ষ ও স যেমন তেমন আরও কটি জোড় বর্ণ রয়েছে আর তা হলো জ ও য।

আসুন আমরা জেনে নিই এই বর্ণ দুটির ব্যবহারের নিয়ম।

‘জ’ব্যবহারের নিয়ম...

১) শব্দের শেষে সাধারণত ‘জ’ বসে । যেমন তেজ,কাজ, গজ, নিজ, আজ, সাজ, দেশজ, ভেষজ, অনুজ, খনিজ, জলজ, পঙ্কজ, কাগজ, বরজ, সহজ ।

২) বাংলা অধিকাংশ ক্রিয়াবাচক শব্দের শেষে ‘জ’ হয় । যেমন- ভাজা, ভজা, ভেজা, খোঁজা, গজানো, ভজানো, ভেজানো, বাজানো, সাজানো ।

৩) বিদেশি শব্দে সাধারণত ‘জ’ হয় । যেমন জ্যাম, জেলি, জংশন, জিনিস, জুলুম, গজল, জাহাজ, মরজি, কলিজা, সেমিজ, কামিজ, জালিম ।

‘য’ ব্যবহারের নিয়ম...

১) তত্সম শব্দে ‘য’ হয় । যেমন যম, যজ্ঞ, যবন, যথা, যতি, যত্ন, যতেক, যন্ত্রণা, যমুনা, যশ, যষ্টি, যবুথবু, যুক্ত, যাহা, যাতনা।

২) ‘য্ ‘ প্রত্যয়যুক্ত শব্দের শেষে ‘য’ হয় । যেমন সূর্য, তূর্য, শৌর্য, কার্য, আর্য, বীর্য, চৌর্য, ভার্যা, গাম্ভীর্য, স্বীকার্য, সাহচর্য, অপরিহার্য, অনিবার্য।

৩) আরবি ফারসি শব্দের উচ্চারণজনিত কারণে প্রতিধ্বনিকরণের জন্য ‘য’ ব্যবহূত হয় । যেমন ওযু, নামায, হযরত, রমযান, রোযা, আযান ।

৪) বিদেশি বানানে ‘ণ’-এর প্রতিবর্ণ হিসেবে ‘য’ ব্যবহূত হয় । যেমন- Yugoslovia ( যুগোশ্লোভিয়া ) Yogু ( যোগী ) ।

বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও প্রাণের চেয়েও প্রিয় সম্পদ। এর যথার্থ ব্যবহার আমাদের যেমন গর্বিত করে তেমনি সকল ক্ষেত্রে এর সঠিক ও নির্ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা মায়ের ভাষায় আমাদের মনের ভাব সহজেই প্রকাশ করতে পারি। তাই এসো  আমরা ১৯৫২ এর মমত্ব দিয়েই এর গুরুত্ব উপলব্দি করি ও সর্বস্তরে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করি।

(সূত্র : শুদ্ধ বানান চর্চা- ড. মোহাম্মদ আমিন।)

আরও জানতে চোখ রাখো ফেইসবুক পেইজে “বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন” গ্রুপে এবং দৈনিক ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায় । আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে।