কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ বাঘা উপজেলা বিএনপি

কেন্দ্রেীয় কর্মসূচির অংশ হিসেব দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা দাবি নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ইতিমধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম বলেছেন, জনগণ রাস্তায় নামতে শুরু করেছে, বিজয় তাদের হবে। তবে বাঘা উপজেলা বিএনপি এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচিই পালন করতে পারেনি। 

ইতিমধ্যে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি যথাত্রমে আবু সাইদ চাঁদ ও মিজানুর রহমান মিনুকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে তারা আল্টিমেটাম দিয়েছে এই দুই নেতাকে তারা কখনোই বাঘায় প্রবেশ করতে দেবে না। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক মামলার আসামি আবু সাইদ চাঁদ প্রকাশ্য দিবালকে পুটিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

1

অপরদিকে সাবেক সিটি মেয়র ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু টেলিভিশনে প্রকাশিত একটি টকশতে চারঘাট-বাঘার সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ রাজশাহীর চারজন এমপি নিয়ে বাজে মন্তব্য এবং  কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় সম্প্রতি বাঘায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে এই দুই নেতাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল। এ আন্দোলনে যোগদেন শত-শত নারীসহ আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন।  

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, মানবতা ও সভ্যতার কথা বলে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বর্তমানে নেন্দ্রীয় বিএনপির নেতারা মুখে যত কথায় বলুক না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। আর মানুষ উন্নয়নে বিশ্বাসী। বিশেষ করে চারঘাট-বাঘায় গত সাড়ে ১৪ বছরে যে পরিমাণ রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে তা দৃশ্যমান এবং বিগত কোনো সরকার আমলে হয়নি। এছাড়া বাঘায় বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ এটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এলাকা এবং এখানে আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। 

বাঘা বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, এখানে দলীয় লবিং-গ্রুপিং থাকার কারণে কোনো নেতা-ই আন্দোলনে যেতে চাচ্ছে না। এ কারণে কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচিও তারা পালন করতে পারছে না। তারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় এই আসনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার প্রার্থীর কমতি হয় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গেলে নেতা খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা উপজেলা বিএনপি নেতাদের এই ব্যর্থতার কথা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের কর্ণপাতের দাবি জানান।

বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল হাসান বাবলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার ফোন রিসিভ করেননি। 

বাঘা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনের জন্য এখানে নয়া আহ্বায়ক, যুগ্ন আহবায়ক এবং সদস্য সচিব রয়েছে। তারা যদি আন্দোলনের ডাক না দেয় তাহলে আমরা কীভাবে যাই। আর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই বা কীভাবে আসবে। নানা জটিলতার কারণে এখানে কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি পালন হচ্ছে না।