সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর বুকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে ২২টি স্প্যানে এই রেলসেতুর ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অংশ দৃশ্যমান হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প অফিস জানায়, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের রেলযোগাযোগে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩শ মিটার উজানে দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে।
এব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের সাব স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার মো. রবিউল আলম বলেন, এ সেতুতে ৫০টি পিয়ার, দুটি পিলারের মাঝখানে একটি করে অর্থাৎ ৪৯টি স্প্যান বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার। এ পর্যন্ত স্প্যান বসানো হয়েছে ২২টি। ইতোমধ্যে ৩১টি পিলার বসানো শেষ হয়েছে। বাকি ১৯টি পিলার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ডাব্লিউডি-১ প্যাকেজের ৭৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ডাব্লিউডি-২ প্যাকেজের ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুর দুই দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সাত হাজার ৩৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করছে। এর মধ্যে কনসালটেন্ট রয়েছেন ১২০ জন। ডাব্লিউডি-১ প্যাকেজে ৮৫০ জন স্টাফ ও দুই হাজার ২০০ জন শ্রমিক এবং ডাব্লিউডি-২ প্যাকেজে এক হাজার ৮৫০ জন স্টাফ এবং দুই হাজার ৩৪০ জন শ্রমিক কাজ করছে।
নির্ধারিত সময়েই এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চার দশমিক আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকের এই রেলসেতুর নির্মাণে ২০২১ সালের মার্চে সেতুর পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।