তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
বড় মোবাইল অপারেটর ইতোমধ্যেই দেশে ফোরজি সেবা চালু করেছে। আসছে ফাইভজি। এই যুগে দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারের পরিমাণও বাড়ছে। উচ্চগতির ফোরজি নেটওয়ার্কের যেসব সুবিধা সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে থাকে ব্যবহারকারীদের, তার মধ্যে অন্যতম ভিডিও কলিং। এর মাধ্যমে ফ্রন্ট ক্যামেরাযুক্ত যেকোনো স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসি থেকে রিয়েল টাইমে পরস্পরের সাথে কথা বলার সাথে সাথে দেখার সুযোগও মেলে।
ভিডিও কলিংয়ের জন্য নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট পিসির জন্য। এর অনেকগুলোকে ওয়েব প্ল্যাটফর্মেও ব্যবহার করা যায়। এই লেখায় বিনামূল্যের সেরা ৫টি ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশনের কথা তুলে ধরা হলো।
উইচ্যাট
চাইনিজ একটি ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশন হলো উইচ্যাট। ইতোমধ্যেই এর নানা ধরনের ফিচারের কারণে এটি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই অ্যাপ্লিকেশনের ৩০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীই তার প্রমাণ। ভিডিও চ্যাট ছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনে রয়েছে গ্রুপ চ্যাট, চ্যাট হিস্টরি ব্যাকআপ, লাইভ চ্যাট, ভয়েস চ্যাটের মতো শক্তিশালী ফিচার। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে চ্যাটিংয়ের সময় যুক্ত করা যায় নানা ধরনের ইমোটিকন। লোকেশন সার্ভিস এবং ফেসবুকের সাথে সংযুক্তির সুবিধাও রয়েছে এতে। আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড, ব্ল্যাকবেরি, উইন্ডোজ ফোন, সিমবিয়ানসহ ওয়েব প্ল্যাটফর্মেও এটি ব্যবহার করা যায়। http://www.wechat.com ঠিকানা থেকে পাওয়া যাবে অ্যাপসটি।
ট্যাঙ্গো
বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারযোগ্য আরেকটি ভিডিও কলিং সার্ভিস হচ্ছে ট্যাঙ্গো। এর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে এটি সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর সাথে সংযুক্ত হতে সক্ষম। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে আপনার সব বন্ধুদের ট্র্যাক করার কাজটিও নিজে থেকেই করতে পারে ট্যাঙ্গো। এর মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও শেয়ারের কাজও করা যায় সহজেই। আর ছবি সম্পাদনার সুযোগও রয়েছে ট্যাঙ্গোতে। এর মাধ্যমে ভিডিও কলিংয়ের সময় বন্ধুদের সাথে গেম খেলার সুযোগও মিলবে। http://www.tango.me ঠিকানা থেকে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ফোন কিংবা ডেস্কটপের জন্য নামিয়ে নিতে পারবেন ট্যাঙ্গো।
ফ্রিং
বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বন্ধুদের একত্রিত করে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশন ফ্রিং। ফলে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে আলাদা করে ওইসব নেটওয়ার্ক চালু রাখতে হবে না। সেই কাজটি করে দেবে ফ্রিং। এর একটি সুবিধা হচ্ছে ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে গেলে এটি নিজে থেকেই ভিডিও কলিংয়ের মানকে সমন্বয় করে নিতে পারে। গ্রুপ ভিডিও, লাইভ চ্যাটসহ ফ্রিং ব্যবহার করা যাবে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস কিংবা সিমবিয়ান স্মার্টফোনে। ডাউনলোডের জন্য প্রবেশ করতে পারেন নিচের ঠিকানা http://www.fring.com।
কুইক
ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে কিছুটা নতুন অ্যাপ্লিকেশন কুইক। ভিডিও কলিংয়ের পাশাপাশি এর মাধ্যমে ভিডিও ক্যাপচার এবং শেয়ারিংয়ের কাজও করা যায় সহজেই। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সব জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে সরাসরি ভিডিও শেয়ার করা যায় এর মাধ্যমে। রিয়েল টাইমে ভিডিও ধারণ করার সময়েই তা শেয়ার করার সুবিধা একে অনেকটাই জনপ্রিয় করে তুলেছে। ফেসবুকের পোস্টগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও করতে পারে এটি। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, ব্ল্যাকবেরিসহ প্রায় সব ধরনের স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যায় কুইক। এর ওয়েব ঠিকানা http://qik.com।
ওভো
অন্যান্য ভিডিও কলিং অ্যাপ্লিকেশনের বিভিন্ন ধরনের ফিচারের পাশাপাশি ওভোতে রয়েছে একসাথে ১২ জন পর্যন্ত বন্ধুর সাথে ভিডিও কলিং সুবিধা। এর মাধ্যমে বন্ধুদের ভিডিও ম্যাসেজও পাঠানো যায়। আবার ভিডিও রেকর্ড করে সরাসরি ইউটিউবে শেয়ারও করা যায় এর মাধ্যমে। ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং, গ্রুপ ভিডিও চ্যাট, ফ্রি ভয়েস কল, ভিডিও কল রেকর্ডের সুবিধা, ফাইল শেয়ারিং, স্ক্রিন শেয়ারিং প্রভৃতি সুবিধার ওভোতে প্রাইভেসি কন্ট্রোলও শক্তিশালী। আর ফোনে বা ট্যাবলেটে ফুলস্ক্রিন মোডেও ব্যবহার করা যায় এটি। অ্যাপল ডিভাইস, অ্যান্ড্রয়েড বা মোবাইল উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি উইন্ডোজ এবং ম্যাক প্ল্যাটফর্মেও ব্যবহার করা যায় ওভো। এর ডাউনলোড জন্য প্রবেশ করতে পারেন নিচের ঠিকানা http://www.oovoo.com।