বাংলাদেশে সেবা প্রদানকারী বিদেশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও বেতার ও ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে এখন বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ প্রচার হচ্ছে। সংবাদপত্র ও স্থানীয় টেলিভিশনের বাইরে এসব মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপনের অর্থ লেনদেন হচ্ছে। বাংলাদেশে হওয়া এসব লেনদেনের বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায় করতে সম্প্রতি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার এসব মাধ্যমে স্থানীয় দর্শক-শ্রোতারা বিজ্ঞাপন দেখলে তার বিপরীতে বিদেশে লেনদেন হলেও ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। এজন্য বিদেশি টেলিভিশনসহ সব ধরনের অনলাইন মাধ্যমকে বাংলাদেশে স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগ দিতে হবে। প্রত্যেক এজেন্টকে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণ করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ভ্যাট নিবন্ধনের বিপরীতে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন (হিসাব বিবরণী) সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিসে দাখিল করতে হবে। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যবস্থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নজরদারির মধ্যে আনতে চায়। এ তালিকায় সব বিদেশি টিভি চ্যানেল ছাড়াও ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ভাইবার, মেসেঞ্জার, হোয়াটসআপসহ সব ধরনের মাধ্যম ভয়েস, বিজ্ঞাপনসেবাও রয়েছে। গতকাল বুধবার এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ এ বিষয়ে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, নতুন ভ্যাট আইন অনুযায় অনাবাসী ব্যক্তি কর্তৃক বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত সেবা, ইলেকট্রনিক সেবা সরবরাহকারীকে ভ্যাট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক প্রদান করতে হবে। আইনানুগ রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশে প্রদত্ত বেতার, টেলিভিশন ও ইলেকট্রনিক সেবার সরবরাহকারী সব প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগ করে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো— বাংলাদেশে এসব উপায়ে যে কোনো ধরনের সেবাই দেওয়া হোক, এর বিপরীতে বিশ্বের যে প্রান্তেই লেনদেন হোক, তার জন্য ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। এনবিআরের ভ্যাট নীতি বিভাগের প্রথম সচিব হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি টিভি কিংবা ফেসবুক, গুগল, মেসেঞ্জার, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে সেবা প্রদান করে, এখনে লেনদেন হলে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। কিন্তু এখন কত লেনদেন হয়, কোথায় হয় কিংবা কী প্রক্রিয়ায় হয়, তার অনেক কিছুই পরিষ্কার নয়। অথচ এখন ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখতে একাধিকবার বিজ্ঞাপন দেখতে হচ্ছে। কিংবা বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের দর্শকরা বিজ্ঞাপন দেখছেন। এটি বাংলাদেশে কোনো না কোনো ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে। কিন্তু এর প্রকৃত তথ্য নেই। এসব লেনদেনের তথ্য স্বচ্ছতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিদেশি টিভি চ্যানেল ছাড়াও ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেঞ্জার, গুগল, ভাইবার, হোয়াটসআপসহ এ ধরনের অনলাইন মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ প্রচারিত হয়ে থাকে। দেশে সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের বড় অংশেই ভাগ বসিয়েছে এসব মাধ্যম। শুধু তা-ই নয়, টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশও এখন এসব মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। ফলে সংবাদপত্র বিজ্ঞাপনের বড় অংশই কমে গেছে বলে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব জানিয়েছে। অথচ সংবাদপত্র মালিকদের কাছ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ রাজস্ব আদায় করলেও এ মাধ্যমগুলো অধরাই থেকে গিয়েছে এতদিন।
তবে কেউ কেউ বলছেন, ভ্যাট এজেন্ট নিয়োগের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হলেও লেনদেনের হিসাব, কিংবা বিদেশে লেনদেন হওয়া অর্থ থেকে ভ্যাট আদায় করা সহজ হবে না। অন্যদিকে এখন যেসব সেবায় ভ্যাট রয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় এর ওপরও ভ্যাট আরোপ (দ্বৈত ভ্যাট) পরিহারের ইস্যুটি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।