সর্বশেষ ‘জ্বিন’ ছবিটি দিয়ে চলচ্চিত্রে আলোচনায় আসেন সজল। তবে নিজের ক্যারিয়ারে আরও কিছু বৈচিত্রময় ছবি নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। মুক্তি পেতে যাচ্ছে হৃদি হকের পরিচালনায় সজল অভিনীত ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ ছবিটি। কথা বললেন নানা প্রসঙ্গে।
আপনার মুক্তি প্রতীক্ষিত নতুন সিনেমাটি নিয়ে জানতে চাই
‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমাটি ড. এনামুল হকের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প। এটি মূলত একটি পরিবারের গল্প। সত্যি বলতে, অসাধারণ একটি গল্পে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন হৃদি হক। এতে আমি রঞ্জু চরিত্রে অভিনয় করেছি। সবচেয়ে বড় কথা সিনেমাটির শুটিং শুরু আগে আমরা দীর্ঘদিন রিহার্সেল করেছি। চেষ্টা ছিল সবার সেরাটা দেওয়ার।
মুক্তিযুদ্ধের গল্পে আমরা এর আগে অনেক সিনেমা দেখেছি। যার বেশিরভাগ গল্পেই যুদ্ধকে প্রধান্য দেওয়া হয়। সেই জায়গা থেকে এই সিনেমাটিতে বিশেষ কী থাকছে?
নির্মাতা গল্পটিকে একেবারে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো আমরা যেভাবে দেখি তার বাইরে গিয়ে নির্মাতা সেই সময়ের একটি পরিবারের হাসি-কান্না, মায়া ফ্রেমবন্দি করেছেন।
এরইমধ্যে সিনেমাটির ‘যাচ্ছো কোথায়’ শিরোনামের একটি গান মুক্তি পেয়েছে। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
গানটির শুটিং ঢাকা, ঠাকুরগাঁওসহ বেশকিছু লোকেশনে করেছিলাম। ১৯৭১ সালের সেই লোকেশনগুলোর জন্য বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শুটিং করা হয়েছে। এমনকি গরমের মাঝেও শীতের কাপড় পড়ে শুট করতে হয়েছে আমাদের। যা আসলে হৃদি হকের ভালো টিমের কারণে সম্ভব হয়েছে। ফলস্বরূপ দর্শকদের দারুণ রেসপন্সও পেয়েছি।
কিন্তু যুদ্ধের এতো বছর পর এসে সেই সময়কে ধারণ করা বা লোকেশন পাওয়া কতটা প্রতিকূল ছিল?
অবশ্যই এই কাজটি অনেক বেশি কঠিন ছিল আমাদের জন্য। কিন্তু চেষ্টা ছিল যেন সেই সময়কে ধারণ করা যায়। কারণ সময়ের সঙ্গে তো সবই পরিবর্তন হয়েছে। তবে নির্মাতার প্রতিটি দৃশ্যেই বিশেষ নজরদারী ছিল। যা দর্শকরা দেখলেই বুঝতে পারবেন।
গল্প-নির্মাণ-অভিনয় ভালো হলে দর্শক হলমুখী হচ্ছেন। ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমাটিতেও এই উপাদানগুলো থাকছে। তাহলে কী বলতে চাচ্ছেন, সিনেমাটি দর্শকরা লুফে নেবেন?
হ্যাঁ, প্রত্যাশা তো রয়েছে দর্শকরা হলে আসবেন এবং হতাশ হয়ে ফিরবেন না। কারণ ভালো গল্প-নির্মাণ যেহেতু দর্শকরা পছন্দ করছেন, পাশাপাশি আমার আগে মুক্তি পাওয়া ‘জ্বিন’ ভালো চলেছে সেহেতু দর্শকদের হলমুখী হওয়ার ধারা ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ও বজায় রাখবে বলে আমার বিশ্বাস আছে।
চলচ্চিত্র নিয়ে সজলের পরিকল্পনাগুলো কেমন?
দেখুন, আমি চলচ্চিত্রকে ভালোবাসি। সেই জায়গা থেকে ভালো গল্প-চরিত্র পেলে দর্শকরা নিয়মিতই প্রেক্ষাগৃহে আমাকে পাবেন।
সিনেমা পাইরেসি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
এই বিষয়ে নির্মাতা-প্রযোজক-শিল্পী থেকে শুরু করে সবারই আরও সোচ্চার হওয়া উচিত। পাইরেসির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সবাই সবার পাশে থাকতে হবে।
এর বাইরে নতুন কোন সিনেমাগুলো আসছে?
এরইমধ্যে দুটি সিনেমার কাজ শেষ করেছি। পাশাপাশি বঙ্গতে শিগগিরই মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্ম ‘পাফ ডেডি’।
ওয়েব ফিল্মটির ট্রেলারে সুলতান নামে ভিন্ন এক সজলের দেখা মিলেছে। আসলে চরিত্রটি নায়ক, নাকি ভিলেন?
এতে সুন্দর একটি গল্পে আমি পরীমণির সঙ্গে অভিনয় করেছি। তবে আমার চরিত্রটি নিয়ে এখনই খোলাসা করতে চাই না। এটা দর্শকদের জন্য চমক হয়েই থাকুক।
সিনেমা ও নাটকের পাশাপাশি ওটিটির কাজও নিয়মিত করছেন। মাধ্যমটি কতটা সুফল বয়ে আনছে?
এখানে নির্মাতারা নিজেদের ভাবনা ও গল্পগুলোকে নানাভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন। ওটিটির আলাদা দর্শকও তৈরি হয়েছে। যারা অভিনয় অভিনয়কে ভালোবাসেন তারা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে মাধ্যমটি আশীর্বাদের মতো।
কিন্তু ওটিটি নিয়েও একটি নীতিমালা তৈরি কথা চলছে। এতে সিনেমার মতো ওটিটিতেও নিজেদের ভাবনা প্রকাশে শঙ্কা তৈরি হবে কিনা?
আমার মনে হয় তেমনটা হবে না। কারণ সবাই তো চায় দিনশেষ ইন্ডাস্ট্রির ভালো হোক। আমাদের কাজগুলো বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিক। তাই নীতিমালা যারাই তৈরি করুক এই বিষয়গুলো নিশ্চয় তারা মাথায় রেখেই করবেন।