স্পোর্টস রিপোর্টার
সেমিফাইনালের স্বপ্নটা এখনও নিভু নিভু প্রদীপ হয়ে জ্বলছে। স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করে যেতে হবে বাংলাদেশ দলকে। লিগ পর্বে আর দুটি ম্যাচ আছে বাংলাদেশের। শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে জিততে হবে দুটি ম্যাচই। আগামী ২ জুলাই ম্যানচেস্টারে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ৫ জুলাই লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়বে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
নিকট অতীতে ২২ গজে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেক বেদনার স্মৃতি সঙ্গী হয়েছে টাইগারদের। সর্বশেষ গত বছর সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপের ফাইনালে শেষ ওভারে হেরে ট্রফি বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। সেই ভারতকে এবার হারাতেই হবে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক আইসিসির কলামে লিখেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের সুযোগ তৈরি করতে হলে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে দমাতে, সেমিতে খেলার সুযোগটা কাজে লাগাতে হলে বোলারদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের বোলিং লাইনের সেই সামর্থ্য আছে।
বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পাওয়া এই বাঁহাতি স্পিনারের মতে, ভারত-পাকিস্তানকে আরেকটা প্রতিপক্ষ হিসেবেই খেলবে বাংলাদেশ। তিনি লিখেছেন, ‘পরের ম্যাচে এশিয়ান প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে কোনো ক্রিকেটারই ভিন্নভাবে প্রতিবেশীদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ভাবছে না। তারা শুধুই আরেকটা প্রতিপক্ষ।’
আগামী ২ জুলাই ভারতকে হারাতে হলে, বাংলাদেশের বোলারদেরকে নিজেদের সেরাটা পারফর্ম করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন রাজ্জাক। তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের ব্যাটিং লাইন খুব শক্তিশালী। জয়ের সুযোগ তৈরি করতে হলে বাংলাদেশকে বল হাতে সেরাটা খেলতে হবে। আমি বিশ্বাস করি তারা এটা করতে পারবে। দল এখন খুব ভালো খেলছে। আমি মনে করি, তারপরও সেমিফাইনালে উন্নীত হওয়া কঠিন হবে কিন্তু খুব ভালো সুযোগ তৈরি করেছে তারা (বাংলাদেশ)।’
ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স থেকে বাংলাদেশ দলকে শেখার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্জাক। হারলেও ভারতের সঙ্গে ম্যাচটা খুব ক্লোজ করে এনেছিল আফগানরা। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার লিখেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ভারত খুব ভালো অবস্থানে আছে। এবং টুর্নামেন্টে এসেছে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে। সবাই তাদেরকে নিয়েই কথা বলছে। কিন্তু এটাই আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। আমি নিশ্চিত তারা চ্যালেঞ্জটা নিতে চাইবে। ভারতের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স থেকে নিশ্চিতভাবেই কিছু শিক্ষা নিতে পারে। যেভাবে আফগানরা ম্যাচটা ক্লোজ করে এনেছিল, যদিও প্রত্যেক দলের ভিন্ন ভিন্ন খেলার উপায় আছে।’
আফগানদের মতোই বোলিং, ফিল্ডিংয়ে শৃঙ্খলিত বাংলাদেশকে দেখতে চান রাজ্জাক। তিনি লিখেছেন, ‘ওই দিন আফগানিস্তানের বোলিং, ফিল্ডিং ছিল অসাধারণ। কিন্তু যদি আমরা ব্যাটিংটা ভালো করি এবং নিজেদের শক্তির দিকে ফোকাস করি, আমরাও ভালো করতে পারব। এটা উইকেট, ওই দিনের অবস্থার উপর নির্ভর করবে। কিন্তু সামনে যা আসবে আপনাকে তা খেলতে হবে।’
মুজিব-রশিদ-নবীকে নিয়ে গড়া আফগানদের স্পিন আক্রমণ। অনেকেই স্পিনের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে আফগানদের এগিয়ে রেখেছেন। রাজ্জাক অবশ্য তেমনটা মনে করেন না। তিনি লিখেছেন, ‘আফগানিস্তান ম্যাচের আগে সবাই বলছিল, আফগানরা বোলিংয়ে (স্পিনার) আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমি দ্বিমত পোষণ করছি। সত্য বললে, আমি বাংলাদেশের স্পিনারদের কাছে এমন পারফরম্যান্সই আশা করছিলাম। সবাই জানে যদি উইকেটে টার্ন থাকে, তাহলে সাকিব ও মিরাজ খুবই ভয়ঙ্কর এবং সেটা প্রমাণিত হয়েছে।’