নকশাবহির্ভূত ৮৫ ভবনের তালিকা তৈরি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন(কুসিক) অনুমোদিত নকশাবহির্ভূত ৮৫টি এবং নকশা অনুমোদনবিহীন ৯টিসহ মোট ৯৪টি ভবনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকা কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হবে। এরপর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন মিলে ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ইতোমধ্যে কুসিক মেয়রের নেতৃত্বে ৩০টি ভবন চিহ্নিত করে ‘এই ভবন অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত। জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হল’ লিখে লাল রংয়ের ব্যানার টানানো এবং এসব ভবনের মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার কুসিকের একাধিক প্রকৌশলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

কুসিক সূত্রে জানা গেছে, নকশা অনুমোদন ছাড়া ও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের তালিকা তৈরির জন্য গত ১৬ মে অফিস আদেশ জারি করেন কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু। এতে কুসিকের সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সালাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রব ও কাজী মাকসুদুর রহমান এবং কানুনগো মো. আবুল কাশেমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কুসিক কানুনগো মো. আবুল কাশেম জানান, এসব ভবনের মধ্যে দেখা গেছে কোনো কোনো ভবনের মালিক পাঁচতলার অনুমোদন নিয়ে সাততলা করেছেন। কেউ ভবন নির্মাণের জন্য কোনো জায়গা ছাড় দেননি। এছাড়া নকশার অনুমোদন না নিয়ে কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকায় পাঁচতলা একটি, কাসেমুল মাদ্রাসার পাশে আটতলা, কান্দিরপাড়ে নয়তলা, ঠাকুরপাড়ায় নয়তলা, ঝাউতলায় ছয়তলা, তালপুকুরপাড় এলাকায় দোতলা, কচুয়া এলাকায় তিনতলাসহ বিভিন্ন স্থানে ভবনের কাজ চলছে।

কুসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন চিশতী বলেন, জেলা প্রশাসক গত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অনুমোদনহীন ভবনের তালিকা সম্পর্কে জানতে চান। তখন আমরা বলেছি, সহসাই তালিকা দেবো।

কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নূরুল্লাহ বলেন, আমাদের কাজ তালিকা তৈরি করে দেওয়া। আমরা তালিকা করে মেয়রের কাছে দেবো। এরপর তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন।

কুসিকের প্রধান প্রকৌশলী সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, এখন পর্যন্ত ৯৪টি ভবনের তালিকা করা হয়েছে। নগরীর সকল ওয়ার্ডে অনুসন্ধান চালিয়ে আরও তালিকা করা হবে।

কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নগর ভবনে জায়গার মালিকরা ভবন নির্মাণের সময় এক ধরনের নকশা অনুমোদন করতে আসেন। পরে দেখা যায়, তারা ওই নকশার ধারেকাছেও থাকছেন না এবং দুই-তিন তলা বাড়িয়েও ভবন নির্মাণ করছেন। কেউ একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবনের মাঝখানে জায়গা ফাঁকা রাখতে চান না। তারা বিল্ডিং কোড মানছেন না। এ কারণে অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত ভবন শনাক্তের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দুই দফা অভিযান চালিয়ে ৩০টি নকশাবহির্ভূত ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব ভবনে লাল কালি দিয়ে লিখে সতর্কীকরণ ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকা সম্পন্ন করার পর এগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।