দেশের আদালতে বিচারাধীন মামলা ৩০ লাখের বেশি

২০১৭ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের পদত্যাগ করতে হবে :আইনমন্ত্রী

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০১৭ সালের আগে যারা ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের পদত্যাগ করতে হবে। বিচার বিভাগের প্রয়োজনে নতুন আইনজীবী নিয়োগ দিতে তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কারো পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয় পায়নি। গতকাল বুধবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (আরজে) এ্যাপ্রোচ ইন মেডিয়েশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানানো হয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে সাংবাদিককে দুদকে তলবের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অবগত নই। তবে দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন যদি করতে হয় তাহলে দুদককে করাই শ্রেয়।

এর আগে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, জাস্টিস অডিটের তথ্যমতে ৬৮ ভাগ মানুষ আনুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল হওয়া সত্ত্বেও ৮৭ ভাগ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। জাস্টিস অডিটে আমরা দেখেছি যে, শতকরা ৩০ ভাগ নাগরিকের প্রাথমিক দ্বন্দ্বের কারণ প্রতিবেশীর সাথে ছোটখাটো বিরোধ বা মারামারি যা স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তিযোগ্য। তিনি বলেন, আমরা এও জানি যে, দেশের আদালতগুলোতে ৩০ লাখের অধিক মামলা বিচারাধীন, যার বেশিরভাগই ছোটখাটো অপরাধের জন্য দায়েরকৃত। তিনি বলেন, ‘আরজে’ আপোষ মীমাংসার একটি অনন্য পন্থা। এখানে অংশগ্রহণমূলকভাবে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। এটা সালিসের মতোই একটি প্রক্রিয়া হলেও কিছুটা ভিন্ন। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব-বিবাদ মীমাংসা করা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতি প্রশমনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে করে সমাজে শান্তি আসে, সম্প্রীতি বাড়ে এবং দ্বন্দ্ব-বিবাদ হ্রাস পায়। বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে সাফল্যের সঙ্গে আরজে প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে জিআইজেড অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছে।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশে জিআইজেড প্রকল্পের উপ জাতীয় প্রকল্প পরিচালক প্রমিতা সেন গুপ্ত বক্তৃতা করেন।