ঢাবির ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট

বার্ষিক সিনেট অধিবেশন

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেট অধিবেশনে গতকাল বুধবার এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এবারের বাজেটে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। যা মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সিনেটের বাজেট অধিবেশনে দীর্ঘ ২৮ বছর পর এবার অংশগ্রহণ করলেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ নির্বাচিত পাঁচ ছাত্র প্রতিনিধি। এদিকে অধিবেশন চলাকালে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবিতে সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সিনেট অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করেন সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। প্রস্তাবিত বাজেটে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে ৬৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত থেকে ৬৬ কোটি টাকা আসবে। বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ৪৫.৭৭ কোটি টাকা।

বাজেটে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৩১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ভাতাদি বাবদ ১৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৪.১৭ শতাংশ। এছাড়া পণ্য ও সেবা বাবদ ১৭১ কোটি ৭৬ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২১.১৯ শতাংশ, বিশেষ অনুদান খাতে ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১.৩১ শতাংশ এবং অন্যান্য অনুদান খাতে ১৭৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২১.৬৮ শতাংশ। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৭৬১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে এ বছর বাজেট বেড়েছে ৬৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ এবং রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনের কার্যসূচিতে ছয়টি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো হলো— উপাচার্যের অভিভাষণ, কোষাধ্যক্ষের বাজেট উপস্থাপন, পূর্ববর্তী অধিবেশনের কার্য-বিবরণী অনুমোদন, ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক বিবরণী বিবেচনা, জগন্নাথ হল ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য ছয়জনের প্যানেল অনুমোদন।

সিনেটে অংশগ্রহণ করা ছাত্র প্রতিনিধিরা হলেন— ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, জিএস গোলাম রাব্বানি এবং সদস্য তিলোত্তমা সিকদার। এর বাইরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সিনেটে যোগ দেন।