চট্টগ্রামের পটিয়ায় সড়কে একটি মাইক্রোবাসের এসির গ্যাস কমপ্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে ১৭ জন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে পটিয়া সদরের পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়।
গাড়িটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া যাচ্ছিল। দগ্ধ ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনের শ্বাসনালী আংশিক পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু আদিবের শ্বাসনালী ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন।
অগ্নিদগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আবদুল হামিদ জানিয়েছেন।
চমেকের বার্ন ইউনিটের চিকিত্সক ডা. নারায়ণ ধর বলেন, তাদের সবার দেহের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন— আবুল কালাম, আবদুল আলম, মো. জহির, আরিফ, তৌহিদুল ইসলাম, মো. লোকমান মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, মো. হেলাল, মো. বেলাল, মো. জাহাঙ্গীর, মো. মামুন, মো. আবির। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি চন্দনাইশ বলে জানা গেছে। এর মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন— ইদ্রিস মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কালাম, আবির হোসেন।
বিদেশ যাত্রী আকতার হোসেনকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে সাতকানিয়া ধর্মপুর বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে ।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হেলাল উদ্দীন বলেন, গাড়িটিতে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি, ত্রুটিপূর্ণ এসির কমপ্রেসার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। পরে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়। গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও বিআরটিসির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরির্দশক মেহেদী হাসান খান জানান, এটি কোনো গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ নয়, মূলত মাইক্রোবাসের এসি কমপ্রেসার লাইনের ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে।