নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিউটি আক্তার কুট্টি (৫০) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের দাবি— স্বামী হত্যা মামলার আসামিসহ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। নিহত বিউটি আক্তার উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকার মৃত এম এ হাসান মুহুরীর স্ত্রী। বিউটি আক্তার কায়েতপাড়া ইউপির ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ছিলেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিউটি আক্তার প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে চনপাড়া-ইছাখালী গাজী বাইপাস সড়কে হাঁটতে বের হতেন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে পশ্চিমগাঁও এলাকায় পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলায় চালায়। চাপাতি দিয়ে তার মাথায় ও বাম হাত কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তারা। ঘটনাস্থলেই বিউটি আক্তার মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী পুলিশকে এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্রসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীসহ সন্ত্রাসীরা ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে বিউটি আক্তারের স্বামীর ওপর হামলা চালায়। ১০ দিন পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বিউটি আক্তার বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিউটি আক্তারের বোন কদবানু বলেন, স্বামী হত্যা মামলার আসামিসহ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বিউটিকে হত্যা করেছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিউটির স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িতরাই বিউটিকে হত্যা করেছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।