খুলনায় ৪ চিকিৎসক সিআইডির কাছে কেন জানতে চায় পরিবার

খুলনায় তিন দিন আগে সিআইডির পরিচয়ে তুলে নেওয়া নিখোঁজ ৪ চিকিৎসকের সন্ধান চেয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (২১ আগস্ট) দুপুরে খুলনা বিএমএ মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। 

এ সময় তারা বলেন, গত শুক্রবার ভোরে সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে সাদা পোশাকে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা কোথায় আছেন, কেমন আছেন? তা পরিবারের সদস্যরা জানতে পারছেন না। ফলে তারা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
 
চিকিৎসকরা হলেন, ডা. লুইস সৌরভ সরকার, ডা. নাদিয়া মেহজাবিন তৃষা, ডা. মুত্তাহিন হাসান লামিয়া ও ডা. শর্মিষ্ঠা সাহা।

সংবাদ সম্মেলনে তৃষার মা নিলুফার ইয়াসমিন, সৌরভের মা ম্যাকুয়েল সরকার, লামিয়ার মা ফেরদৌসী আক্তার ও শর্মিষ্ঠার বাবা ডা.দীনবন্ধু মণ্ডল তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ছবি: ইত্তেফাক
 
আবেগাপ্লুত চিকিৎসকদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাদের কোনো কথা বলার সুযোগ দেননি। তারা বাসায় তল্লাশির নামে ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস তছনছ করে। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে পারেননি। এক কাপড়ে তাদের বাসা থেকে  পৃথকভাবে নিয়ে গেছে। একটি যোগাযোগের মোবাইল নম্বর দিলেও সেটি কেউ ধরছেন না।
 
চিকিৎসকদের অভিভাবকরা বলেন, তাদের সন্তানরা অপরাধী হলেও কী অপরাধ করেছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অভিভাবক হিসেবে তা জানার অধিকার আমাদের আছে। আইন অনুযায়ী তাদেরও অধিকার রয়েছে। তাই তাদের সন্ধান চাই আমরা।
 
ডা. লামিয়ার মা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, লামিয়ার আড়াই বছরের একটি শিশুসহ দুটি সন্তান রয়েছে। শিশুরা তাদের মাকে খুঁজছে। একটি শিশু বুকের দুধ পান করে। আমরা কোনোভাবেই তাদের বোঝাতে পারছি না।
 
এক প্রশ্নের জবাবে অভিভাবকরা জানান, তাদের সন্তানরা এক সময়ে খুলনার আলোচিত ডা. তারিমের থ্রি ডক্টরস কোচিংয়ে পড়াশোনা করেছে। কোচিংয়ের নিয়ম অনুযায়ী ফি পরিশোধ করেছে। নিজ নিজ মেধা ও যোগ্যতায় তারা চিকিৎসক হয়েছেন। তাই মেডিকেল প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলা হচ্ছে- তা সঠিক নয়।
 
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার খুলনার তিন নারী চিকিৎসকসহ ৫ চিকিৎসকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। গত ৭২ ঘণ্টায়ও তাদের সন্ধান মেলেনি। এর মধ্যে মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কলেজে ভর্তি কোচিং থ্রি ডক্টরসের উপদেষ্টা ও মালিক ডা. ইউনুস উজ্জামান খান তারিমকে আটক করে সিআইডি। খুলনা সদর থানা পুলিশের ওসি হাসান আল মামুন সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে নিখোঁজ চার চিকিৎসকের সন্ধান চেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কএমপি) কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) খুলনা জেলা শাখা। গত রোববার রাতে পুলিশ কমিশনারকে দেওয়া চিঠিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসকদের খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়।

বিএমএ খুলনা জেলা সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, প্রায় তিন ধরে নিখোঁজ চার চিকিৎসকের সন্ধান চেয়েছি। তারা কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হলে সেটি আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু কোনোভাবেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তিন ধরে নিখোঁজ বা কাউকে আটকে রাখা যায় না। আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু এখানে কী হচ্ছে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।