খুলনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জড়ো হওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রবিবার সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতার নারীর স্বামী আলমগীর শিকদারের দাবি, তার স্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তার ছোট ছেলে তানজিলুর রহমান আমেরিকায় পিএইচডি গবেষণারত এবং বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। আমেরিকায় বসে ফেসবুকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়ায় খুলনায় তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় দুজন ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করতে আসায় তাদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার নগরীর খালিশপুরের ফয়েজ উদ্দীন সড়কের সিদ্দিক হেলালের বাসায় বসে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঐ বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ঐ বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ধর্মীয় উগ্রপন্থী বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রেজিস্টার ও অন্তর্ঘাতমূলক ষড়যন্ত্র করার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ, একটি পাসপোর্ট, চারটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মালামালসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. রকিবুল ইসলাম (২৪), মো. তামিম ইকবাল (১৯) ও আনিছা সিদ্দিকা (৪৫)। অভিযানের খবর পেয়ে এ সময় আরও বেশ কয়েক জন পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, সিদ্দিক হেলাল খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর ৩ নম্বর নায়েবে আমির। তার বাসায় বিপুল পরিমাণ ধর্মীয় উগ্রপন্থী বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিনসহ লাইব্রেরি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বসে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসহ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র পরিচালনা করতেন।
তবে গ্রেফতার আনিছার পরিবার অভিযোগ করে, স্থানীয় যুবলীগ নেতারা পুলিশ নিয়ে বাসায় হাজির হয়ে তাণ্ডব চালান এবং লুটপাট করেন। দুটি ল্যাপটপ ও নগদ টাকা নিয়ে যান। সিদ্দিক শহীদ নামে তাদের এক স্বজনকে মারধর করেন। এ সময় আনিছা সিদ্দিকা প্রতিবাদ করলে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এ সময় দুজন ভাড়াটিয়া এগিয়ে আসায় তাদেরও সঙ্গে নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে নগরীর খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল গিয়াস বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী গোপন বৈঠক হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে খালিশপুরের ঐ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় এক জন নারীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুকের স্ট্যাটাসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করা হয়েছে।