অবশেষে আবাহনী পারল। বছরের পর বছর অপেক্ষার পর এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে আরেক ধাপ এগিয়েছে আবাহনী। এএফসি কাপ ফুটবলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। গতকাল ভারতে আসামের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আবাহনী ১-০ গোলে ভারতের পাঞ্জাব মিনার্ভাকে হারিয়ে আরেকটি ধাপে খেলার টিকিট পেয়েছে। খেলার অন্তিম মুহূর্তে আফগান ডিফেন্ডার মাসি সাইঘানীর গোলটি আবাহনীকে ইতিহাসের পথে নিয়ে গেছে।
দেশের ফুটবলে খুব ভালো সময়ই যাচ্ছে। এইতো সে দিন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল কাতার বিশ্বকাপ এবং এএফসি কাপ ফুটবলের বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠল। কয়েক দিন না যেতে আবাহনীও ক্লাব ফুটবলের লড়াইয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেল।
আবাহনীর জন্য কঠিন সময় গেছে কাল। কারণ আবাহনীর খেলা যখন চলছিল তখন নেপালে একই সময় একই গ্রুপের দুই দল, ভারতের চেন্নাই এফসি ও নেপালের মানাং মারসিয়াংদী ক্লাব লড়াই করছিল। নেপালী দলের জন্য ছিল নিয়মরক্ষার ম্যাচ। আর চেন্নাইয়ের জন্য ছিল জিততেই হবে এবং আবাহনীকে হারতে হবে। তাহলে চেন্নাই এফসি উঠে যাবে এবং বিদায় নেবে আবাহনী। আর আবাহনীর জন্য সমীকরণ ছিল তাঁরা জিতলেই আরো কোনো হিসাব দরকার হবে না। আবাহনী সেই কাজটা করে দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন হতে ফুটবলের জন্য একটা সুখবর এনে দিয়েছে। অনেক অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
আবাহনীর জন্য কঠিন ম্যাচ ছিল এটি। আবাহনীর দুই ডিফেন্ডার ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে। তার ওপর আক্রমণ ভাগের প্লেমেকার নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবা ভারতের যাওয়ার ভিসা পাননি। তার অনুপস্থিতি পূরণ করা আবাহনীর জন্য কঠিন। তারপরও আবাহনীর কর্মকর্তা, পর্তুগীজ কোচ মারিও লেমস এবং খেলোয়াড়রা প্রস্তুত ছিলেন সানডেকে ছাড়াই মরণ কামড় দিতে হবে। এমন ভাবনা মাথায় রেখে দেশের ফুটবলকে একটা উপহার দিতে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে ম্যাচ জিতেছে আবাহনী। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টার্ফের মাঠে খেলতে নামে জীবন, বেলফোর্ট, সোহেল রানা, মামুনুল ইসলাম, সাদ উদ্দিন, ওয়ালী ফয়সাল, রায়হান, জুয়েল রানা, মাসি সাইঘানীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। গরমে জার্সি ভিজে ঘাম গড়িয়ে পড়ছিল। এই দাবদাহের মধ্যে আবাহনী শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচ জিতেছে। বাফুফে অভিনন্দন জানিয়েছে আবাহনীকে।
(এই ম্যাচের আরো খবর খেলা পাতায়)।