সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের বশিরগাঁও খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটির নকশায় ভুল থাকার কারণে ঘন ঘন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ঐ এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এলজিআরডি নির্মিত এ ব্রিজের ঢালে সড়কের সংযোগস্থলে অ্যাপ্রোচ দেওয়াল বাঁকা করে নির্মাণের কথা থাকলেও সেটি নির্মাণ করা হয়েছে সোজা করে। এতে গাড়ি মোড় নিতে গিয়ে উলটে পড়ে গত ১০ বছরে ছোট বড় প্রায় অর্ধশত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এলাকাবাসী। এসব দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্রিজটি সংস্কারের আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর বাজার থেকে প্রভাকরদী যাওয়ার পথে বশিরগাঁও খালের ওপর ২০০৯ সালে ব্রিজটি নির্মিত হয়। এটি নির্মাণের ফলে ঐ এলাকার প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের যাতায়াত কষ্ট লাঘব হয় কিন্তু পাশাপাশি অন্য এক সমস্যা দেখা দেয়। যানবাহন ব্রিজ থেকে নামতে গিয়ে অ্যাপ্রোচ দেওয়ালে ধাক্কা লেগে উলটে যাচ্ছে, আহত হচ্ছে মানুষ। এ স্থানে গাড়ি উলটে মহজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা আক্তার, সুরাইয়া ও আবু তালেব আহত হন। এছাড়াও ঐ এলাকার ব্যবসায়ী মো. রিপন আহম্মেদ, রাজিব ভূঁইয়া, চাকরিজীবী আসাদউল্লাহ, আবুল হাসেম, গাড়িচালক আসাবউদ্দিনসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন।
বশিরগাঁও গ্রামের ফরিদ হোসেন মল্লিক জানান, আমরা ব্রিজ নির্মাণকালে এ অ্যাপ্রোচ দেওয়াল করার সময় ঠিকাদারকে বাধা দিয়েছিলাম। ঐ সময়ে ঠিকাদার প্রকৌশলীর করা নকশা দেখিয়ে বলেছিলেন, নকশায় যেভাবে আছে আমরা সেভাবেই ব্রিজটি নির্মাণ করছি। ফরিদ বলেন, প্রকৌশলীর ভুলের মাশুল এলাকাবাসীর হাত-পা ভেঙে দিতে হচ্ছে। এ স্থানে প্রতি মাসেই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে।
আহত ব্যবসায়ী রিপন আহম্মেদ জানান, ব্রিজের দুদিকে রাস্তা রয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়ক দুদিকে বাঁকা করে নির্মাণ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ ব্রিজের অ্যাপ্রোচ দেওয়াল সোজা করে নির্মাণের কারণে গাড়িগুলো ঘুরানোর সময়ে উলটে গিয়ে লোকজন আহত হচ্ছেন। দেওয়ালটি সংস্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
জামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ করিম ভূঁইয়া সুমন জানান, ব্রিজটি নির্মাণের ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়। কিন্তু অ্যাপ্রোচ দেওয়াল সোজা করে নির্মাণের কারণে মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তিনিও অ্যাপ্রোচ দেওয়ালটি বাঁকা করে নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন।
বর্তমান সোনারগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী আলী হায়দার খান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চলতি বছরেই ব্রিজের অ্যাপ্রোচ দেওয়ালটি নির্মাণ করা হবে।