সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ (জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ) মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট। আরেক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তার বাবার মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে সিনিয়র বুশের শরীর ভাল যাচ্ছিল না। গত এপ্রিলে রক্তের সংক্রমণ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই মাসেই তিনি ৭৩ বছরের জীবনসঙ্গী স্ত্রী বারবারা বুশকে হারান। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপির
সিনিয়র বুশের মুখপাত্র জিম ম্যাকগ্রাথ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১০ টা ১০ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন সিনিয়র বুশ। জর্জ বুশ এক বিবৃতিতে জানান-আমি, জেব, নেইল ও মার্ভিন অত্যন্ত দু:খের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের বাবা জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ মারা গেছেন। আমাদের প্রিয় বাবার ৯৪ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি বলেন, যে কোনো পুত্র কিংবা কন্যা এমন একজন বাবা পেয়ে গর্ববোধ করবেন। মুখপাত্র জানান, সিনিয়র বুশের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কে এই জর্জ বুশ সিনিয়র
সিনিয়র বুশ ১৯২৪ সালের ১২ জুন ম্যাসাচুসেটসের মিল্টনে রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ওই সময় তারা বাবা প্রেসকট বুশ ছিলেন একজন সিনেটর। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির আগে বারবারা পিয়ার্সকে বিয়ে করেন বুশ। তাদের ছয় সন্তান। রবিন নামের এক সন্তান শিশু বয়সেই মারা যায়। তার ছেলে জর্জ ডাব্লিউ বুশ ৪৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আরেক ছেলে জেব বুশ গভর্ণর এবং ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন যদিও দলের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের কাছে হেরে যান।
১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত মাত্র এক দফায় সিনিয়র বুশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অবশ্য তার আগে তিনি প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কিন্তু ঐ চার বছরে আন্তর্জাতিক পরিসরে একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনায় তাকে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়েছিল। পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের অবসান এবং ১৯৯০ সালে সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলের ঘটনা তার সময়েই ঘটে।
পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের অবসানের পর সিনিয়র বুশ বলেছিলেন, নতুন এক সুবাতাস বইতে শুরু করেছে, মুক্তির গন্ধ নিয়ে এক নতুন পৃথিবীর জন্ম হচ্ছে। সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত দখলের পর তাকে সেখান থেকে হটাতে তিনিই আন্তর্জাতিক এক সামরিক কোয়ালিশন তৈরি করেন। জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি, কিন্তু তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয় যে তিনি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন দিচ্ছেন না। ফলে ১৯৯২ সালের নির্বাচনে তিনি বিল ক্লিনটনের কাছে পরাজিত হন। টেক্সাসে জ্বালানি তেলের ব্যবসা শুরু করে মাত্র ৪০ বছর বয়সে বুশ কোটিপতি বনে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে ছিলেন। ১৯৪৪ সালে জাপানিদের গুলিতে তার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। রাজনীতিতে ঢোকেন ১৯৬৪ সালে।
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শোক
সিনিয়র বুশের মৃত্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্র্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বুশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন বলেন, দেশ আর পরিবারের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা আর ভালবাসা। তিনি মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, আমরা এক দেশপ্রেমিককে হারালাম। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন সিনিয়র বুশের সঙ্গে তাদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, দেশের প্রতি তার মমত্ববোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এছাড়া সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন সিনিয়র বুশের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।