অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত সিলেকশন গ্রেড পেলেন ২৩৮ জন নার্সিং কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১২৩ জন, খুলনা বিভাগের ৬৫ জন ও বরিশাল বিভাগের ৫০ জন রয়েছেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের (নার্সিং সেবা-১) উপ-সচিব ডা. মোহাম্মদ শিব্বির আহমেদ উসমানী স্বাক্ষরিত সিলেকশন গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতাধীন দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাদের পদোন্নতি উচ্চতর টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড প্রদান বিষয়ক সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পদোন্নতি নির্বাচন কমিটির গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৩৮ জন কর্মকর্তার অনুকূলে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ এর অনুচ্ছেদ ৭(৯) নবম গ্রেডের স্কেল সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুর করা হয়। তবে যদি কোনো নার্সিং কর্মকর্তা চাকরি জীবনে দুইটি উচ্চতর টাইম স্কেল সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন তারা সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্য হবেন না। এদিকে চালু হওয়া সিলেকশন গ্রেড যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে সেই দাবি করেছেন নার্সিং সংগঠনগুলোর নেতারা। তারা বলেন, এক বার চালু হওয়ার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। এটা যেন না হয়।
অপরদিকে সকল জটিলতা নিরসন করে বহু প্রতীক্ষিত নার্স কর্মকর্তাদের সিলেকশন গ্রেড মঞ্জুরের আদেশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ)। বুধবার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ হস্তক্ষেপে ২০১১ সালে সকল ডিপ্লোমা নার্সদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তায় উন্নীত করা হয়। এর ফলে ২০১৫ সাল থেকেই নার্স কর্মকর্তাগণ সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্ত হলেও বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকে। অবশেষে সকল জটিলতা নিরসন করে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিকভাবে ২৩৮ জন নার্স কর্মকর্তাকে প্রাপ্য বকেয়া সিলেকশন গ্রেড সুবিধা প্রদান করা হয়।
বিএনএর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটওয়ারি এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সেই সঙ্গে নার্স কর্মকর্তারা যেন দ্রুত এ সুবিধা পান সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান নার্স নেতারা।