বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

তাড়াশে রাস্তা বন্ধ করে মাছের পানির ব্যবসা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রাস্তা বন্ধ করে ভটভটি ও ছোট ট্রাক রেখে চলছে মাছের পানির ব্যবসা। পানি বিক্রির সময় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এছাড়া মাছের পানি পড়ে অনবরত সড়কগুলো ভিজে থাকছে। ফলে যানবাহন চলাচলের সময় পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। সচেতন মহলের দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কের ওপর পানির ব্যবসা বন্ধ করা না গেলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কগুলো খানাখন্দে ভরে যাবে। এতে বাড়বে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

জানা গেছে, বগুড়া ও নাটোর পর্যন্ত সংযোগ থাকার দরুন তাড়াশ থেকে রানী হাট সড়কটির এলাকাভিত্তিক যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। নাটোর, রাজশাহী ও বগুড়াতে চাকরিরত অনেক কর্মকর্তা এই সড়ক দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে নিয়মিত অফিস করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াশ থেকে রানী হাট সড়কের বিনসাড়া হাটের সামনে সড়কে, রানীহাট বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে ভবনীপুর সড়কে, কাটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভোগলমান চৌরাস্তা মোড়ে, পৌর এলাকার পশ্চিম ওয়াপদা বাঁধের তিন রাস্তা মোড়ে সড়কে ছোট ট্রাক ও ভটভটি রেখে মাছের পানি বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের ওপরে ভটভটি ও ছোট ট্রাক রেখে মাছের পানি বিক্রি করা হয়।

বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের অটোভ্যান চালক আব্দুল কাদের, ইসমাইল হোসেন ও খয়বার হোসেন বলেন, ভ্যানের

উপার্জনে আমাদের সংসার চলে। প্রতিদিন ১৫-২০ বার আমাদের তাড়াশ উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু সড়কের ওপর ভটভটি ও ট্রাক রেখে পানি বেচার কারণে আমাদের সময়ের অপচয় হচ্ছে। মাছের গাড়িতে পানি দেওয়ার সময় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পানি দেওয়া শেষ হলেই আমরা চলাচল করতে পারি।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী বাস ও ট্রাকের চালকরা জানান, তাড়াশ থেকে রানী হাট সড়কটি নতুন নির্মাণ ও প্রশস্থ করার ফলে বিকল্প সড়ক হিসেবে ঢাকা ও রাজশাহীমুখী দূরপাল্লার অনেক যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে পানির ব্যবসার কারণে প্রায়ই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

মাছের গাড়িতে পানি বিক্রেতা আব্দুল হাকিম, নূর মোহাম্মাদ, ওমর আলী ও আব্দুল গফুর বলেন, তাড়াশে আরও অনেকে অনুরূপভাবে পানি বিক্রি করেন। তারা বন্ধ করলে আমরাও পানির ব্যবসা বন্ধ করে দেব। এদিকে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম তরফদার সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাউল করিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাউল করিম বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে ও সড়কের ক্ষতি সাধন করে পানির ব্যবসা করা ঠিক না। এ সপ্তাহের মধ্যে সড়কে পানির ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে ।