জাপানে ‘সেপারেশন ম্যারেজ’ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

জাপানের সমাজব্যবস্থায় দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘সেপারেশন ম্যারেজ’ বা দূরবাসী বিয়েতে। বিয়ের পর বিবাহিত জীবনের কোনো পরিবর্তন নেই! আবার স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কোনো সমস্যাও চলছে না! দুজনেই খুব খুশি! দুজন দুজনের খবরও রাখছেন। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে। দূরত্বে থাকা এমন নব দম্পতিদের বিয়েই হচ্ছে ‘সেপারেশন ম্যারেজ’। অন্যদিকে এমন বিয়েকে ‘সাপ্তাহিক বিয়ে’-ও বলা যায়। অর্থাৎ বিয়ে করে আলাদা থাকার রীতি। বিয়ের পর প্রতিটা কাজে কেউ কারো উপর খবরদারি করার করে না। 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপারেশন ম্যারেজ মানে হলো আইনত বিবাহিত হলেও স্বেচ্ছায় যখন কোনো দম্পতি আলাদা থাকেন। এই বিয়ের ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে একসাথে থাকেন! তবে এটাও নব দম্পতিদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। এর আছে কিছু ইতিবাচক কারণ। চলুন জেনে নেই জাপানিদের সেপারেশন ম্যারেজের ইতিবাচক কারণগুলো সম্পর্কে-
 
১. বিয়ের পর অনেক নারী পুরুষই নিজেকে সময় দিতে ভুলে যান। নিজেকে নিয়ে ভাবার জন্য জাপানিদের কাছে সেপারেশন ম্যারেজ একটি আদর্শ বিবাহ পদ্ধতি। এছাড়া এতে নিজেদের কাজেও মনোযোগী হতে পারেন তারা। কেউ কারও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেন না। সেপারেশন ম্যারেজে কেউ কারও উপর খবরদারি করেন না।


 
২. একসাথে থাকলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মতের অমিল ধরা পরে আর তিল থেকে হয় তাল। ছোট খাটো বিষয়ে ঝগড়া হওয়া তো স্বাভাবিক বিষয়ে গড়ায়। তাই বর্তমানে বেশিরভাগ জাপানিরা মনে করেন আলাদা থাকলে মূল্যবোধের পার্থক্য থাকলেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হবার কোনো আশঙ্কায় থাকবে না।

৩. নারী-পুরুষের সমতার কথা সারাবিশ্বে ফলাও করে বলা হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক রীতিতে নারীদের এখনও পুরুষের উপর নির্ভরশীলই ধরে নেয়া হয়। তাই নারী-পুরুষের স্বাধীনতায় যাতে বিয়ে কোনও প্রভাব ফেলতে না পারে তাই এ প্রজন্মের জাপানিরা নিজেদের জন্য এই অদ্ভূত রীতি চালু করেছেন। এতে দম্পতিরা কেউ কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন না।


 
তবে সেপারেশন ম্যারেজের ক্ষেত্রে সারা সপ্তাহ নিজের মতো কাটালেও পার্টনারের জন্য স্পেশাল একটি দিন বরাদ্দ থাকে। যেদিন তারা একসাথে সময় কাটান। ঘুরতে যান অথবা একসাথে ডিনার ডেটে বের হন। শুধু জাপান নয়, অন্যান্য দেশেও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানিদের এই সেপারেশন ম্যারেজ।