চরাঞ্চলে বাড়ছে পানি, প্লাবিত চারণ ভূমি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ছেই। সেই সঙ্গে বাড়ছে জেলার অভ্যন্তরীণ করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়াল নদীর পানিও। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এসব নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।  পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা পাড়ের বাসিন্দাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এদিকে জেলার শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন নিম্ন এলাকায় চারণ ভূমি প্লাবিত হওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে খামারিরা বিপাকে পরেছে। কাঁচা ঘাসের অভাবে দুগ্ধ উৎপাদন কমে গেছে বলেও নিশ্চিত করেছেন খামারিরা।

পোতাজিয়া এলাকার খামারি মমতাজ উদ্দিন জানান, চাহিদা অনুযায়ী গাভীগুলোকে খাবার দিতে না পারায় দিন দিন দুধের পরিমাণ কমে যাচ্ছে ফলে তারা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুধের উৎপাদনও অনেক কমেছে। এ বিষয়ে তারা মানুষের পাশাপাশি গরুর খাবার বিতরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র ভুষির ওপর খামার টিকিয়ে রাখা খামারিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

দুগ্ধ সমিতি সূত্র জানিয়েছে, এই এলাকায় প্রায় ১৫০টিরও বেশি বাথান ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকেই গাভী পালন করে আসছে। যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

এদিকে শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। চরাঞ্চলসহ অনেক নিচু বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত ও ডুবে গেছে বিভিন্ন ফসল। এতে বিশেষ করে চরাঞ্চল এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বাড়ছে। বন্যা কবলিত অনেক পরিবার এখন মানববেতর জীবনযাপন করছে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, নদীর নতুন করে পানি বাড়তে থাকায় বন্যা প্লাবিত জেলার পাঁচটি উপজেলার যমুনা অভ্যন্তরের চরাঞ্চলের গ্রামগুলো, ফসলের মাঠ,বসতবাড়ি পানি উঠছে তাই এলাকাবাসী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, উজান থেকে নেমে আসা  পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে নতুন করে আবারও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু চলমান ভারি বর্ষণে যমুনার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের নিম্নভূমিগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড় ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।