রান্নাঘর গুছিয়ে রাখুন

বাড়ির রান্নাঘর সামলানো কম ঝক্কি-ঝামেলার ব্যাপার নয়। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার রেডি করা পর্যন্ত সবসময় নিজেকে অ্যাক্টিভ রাখার জন্য যথেষ্ট তদারকি প্রয়োজন। রান্নাঘরের নানান রকমের ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটেস, বাসনপত্র, তেল-মসলা, খাবারদাবার সামলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাটা সহজ ব্যাপার না। পুরো ব্যাপারটাই বেশ পরিশ্রমসাধ্য। তবে শুরু থেকে রান্নাঘরের প্রতিটি ভাগের কাজ প্ল্যানিং করে নিলে এই অসুবিধার হাত থেকে রেহাই পাওয়া অনেকটাই সম্ভব। তাই এবার কিছু পরামর্শ। লিখেছেন শারমিন রহমান। 

জায়গায় সঠিক ব্যবহার

রান্নার সময় সহজেই হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়ার জন্য ছোটখাটো কিছু অদলবদল করে নিন নিজের সুবিধামতো। অ্যারেঞ্জমেন্ট খুবই জরুরি রান্নাঘরের রকমারি জিনিসপত্র মেইনটেইন করার জন্য।

ক্যাবিনেট

ক্যাবিনেটগুলো একেকটা বাসুনের মাপ অনুযায়ী একেক রকম সাইজে বানিয়ে নিন। যেমন—বোল বা প্যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ক্যাবিনেটের চেয়ে আরেকটু লম্বা হবে ট্রে রাখার ক্যাবিনেট। প্রতিটি ক্যাবিনেটের দরজার ভেতরের দিকে নানান মাপের খুন্তি, হাতা, বড় চামচ ইত্যাদি ঝুলিয়ে রাখার আংটা রাখুন।

রান্নাঘর

কিচেন কাউন্টারের মধ্যে পুল আউট টেবিল বানিয়ে নিন। ইচ্ছামতো সেটা তুলে বোল্ট আটকে দিয়ে গ্যাপটা ভরাটি করে নিলেই চলবে। এবার ওই টেবিলের উপর রেখে প্রয়োজনীয় কাটা-বাছা, রুটি বেলা, মিস্কি চালানো সবকাজ করা যেতে পারে।

জায়গাজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু কিছু কিচেন ফার্নিচার বাতিল করে ফাঁকা ওয়ালস্পেসে কিছু হ্যাঙ্গিং ক্যাবিনেট ও শেলফ বানিয়ে নিন। এতে করে দেখতে সুন্দর লাগবে আবার চলাফেরার জন্য স্পেস বাড়বে।

বাসনপত্র

প্রতিটি ছোটখাটো বাসনও নির্দিষ্ট ক্যাবনেটে রাখার ব্যবস্থা করুন।

প্রতিদিন ব্যবহারে যেসব বাসন, যেমন—লাঞ্চ বা ডিনারের সেট, ছুরি, চামচ, এগুলো খাবার ঘরের সাইড বোর্ডে রাখার ব্যবস্থা করুন। তাহলে রান্না ঘরে অন্য জিনিস স্টোরেজের জায়গা বের হবে।

সিঙ্ক ও গ্যাসের চুলা

গ্যাসস্টোভের সামনেটা যদি সম্ভব হয়, দেয়ালের জানালার মতো চারকোণা খোপ কেটে নিতে পারেন, আবার এই খোপের তলার অংশটি তাকের মতো ব্যবহার করে রান্নার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রান্নার সময় এ ক্যাবিনেট থেকে বের করে হাতের কাছে রাখতে পারেন।

সিঙ্কের নিচের ফাঁকা জায়গায় শেলফ বানিয়ে নিন। সেখানে বাসন ধোয়ার সাবান, স্ক্রাবার, বাসুন মোছার ন্যাপকিন গুছিয়ে রাখুন।

রান্নাঘরে অবশ্যই একটি ঢাকনা দেওয়া নোংরা ফেলার বালতি রাখবেন।

কিচেন গ্যাজেটসের ব্যবহার

রান্নাঘরের গ্যাজেটপত্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এগুলোর হ্যান্ডলিংকটাও একটা জরুরি ব্যাপার। চটপট রান্নার পাট চুকিয়ে ফেলার জন্য হাতের কাছে রাখুন কয়েকটি স্মার্ট অপশন।

ইলেকট্রিক চিমনি

নতুন সিস্টেমে কার্বন ফিল্টারে দূষিত ধোঁয়াটা পিউরিফাই হয়ে বেরিয়ে যায়। এরজন্য আলাদা নলের দরকার হয় না।

বেশি ভাজাভুজি বা ঝাল মসলার রান্না হলে, তেল, গ্যাস শুষে নেওয়ার জন্য মোটরের ক্যাপাসিটি কত জেনে নিন। চিমনির শোষণ ক্ষমতা কত, সেটাও মনে রাখুন।

নিরাপদ থাকার জন্য

সারাদিন বেশ কিছুটা সময় আমাদের রান্নাঘরেই কাটাতে হয়। রান্নাঘরে নিরাপদ থাকার জন্য কতগুলো জরুরি কথা অবশ্যই মেনে চলা দরকার।

পোশাক

সিন্থেটিক মেটারিয়ালের তৈরি জামাকাপড় পরবেন না। সুতির কাপড় পরুন। ঝোলা লম্বা হাতার পোশাক বা এলোমেলো পোশাক পরবেন না। জুতা পরে রান্নাঘরে কাজ করার চেষ্টা করুন।

পরিচ্ছন্নতা

মেঝে কখনোই অপরিষ্কার রাখবেন না, বিশেষ করে তরকারির খোসা, পানি, তরকারির ঝোল পড়ে থাকলে বাচ্চারা পড়ে যেতে পারে। হাতের কাছে মোছার জন্য কাপড় বা ডাস্টার রাখুন।

গ্যাজেটস

মিক্সিতে পেস্ট করার পর পুরোটা বের করতে না পারলে চামচ ব্যবহার করুন। কখনই হাত ঢুকিয়ে দিয়ে বাকি জিনিস বের করতে যাবেন না। হাত কেটে যেতে পারে। গ্যাজেটের প্লাগ কখনই পানির কাছে রাখবেন না। পেপার টাওয়েলের মতো কোনো দাহ্য বস্তু বার্নারের কাছে রাখবেন না। কিছুদিন পর পর গ্যাসের চুলার পাইপ পরীক্ষা করুন। কোনো লিকেজ থাকলে বদলে ফেলুন। গ্যাসের পাইপের উপরে গরম খাবার ফেলবেন না।

রান্নাঘর

রান্নার পদ্ধতি

রান্না করতে করতে গরম তাওয়া বা কড়াইয়ে খুন্তি বা চামচ রেখে দেবেন না। পরের বার রান্না করতে যাওয়ার সময় হাতে গরম লেগে যেতে পারে। মাছ বা লুচি যেকোনো কিছু ডিপ ফ্রাই করার সময় একদিক থেকে দেবেন, তা হলে তেল ছিটকে পড়বে না।

ঝকঝকে ও পরিষ্কার রাখতে

বার্নারের নোংরা কাপের মধ্যে চা, কফির দাগ কিংবা চপিং বোর্ডে সবজি কাটার দাগ রয়ে যায়। এই টুকিটাকি পরিষ্কার করার জন্য লবণ, সোডা ও ভিনিগার ব্যবহার করতে পারেন।

লবণ

অনেক সময় দেখা যায়, গ্যাস ওভেনের চারপাশে চলকে পড়ে শক্ত হয়ে যায়। একে পরিষ্কার করতে এক চামচ লবণ আর গরম পানি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিলে খাওয়ার দাগ ও তেলতেলেভাব দুটোই চলে যাবে।

চপিং বোর্ডে সামান্য লবণ ও ব্লিচ পাউডার ছড়িয়ে দিন। এরপর শক্ত ব্রাশ বা স্ক্রাব দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। তারপর গরম পানি দিয়ে চপিং বোর্ড ধুয়ে ফেলুন। অ্যালুমিনিয়ামের জানালার ফ্রেমে সহজেই তেলচিটে পড়ে যায়, ভেজা কাপড়ে লবণ দিয়ে জানালার ফ্রেম মুছে ফেলুন।

সোডা
ওভেনের ভিতর পরিষ্কার করার জন্য বেকিং সোডা ছড়িয়ে সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ফ্রিজের ভিতরের স্যাঁতসেতে গন্ধ কমানোর জন্যও বেকিং সোডা ব্যবহার করুন।

ভিনিগার
চিনামাটির কাপ, প্লেট বা ডিনার প্লেট থেকে কড়া দাগ পরিষ্কার করার জন্য ভিনিগারে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর স্ক্রাবার প্যাডে সামান্য লবণ দিয়ে মাজুন। দেখবেন দাগ ওঠে যাবে।