নিমন্ত্রণের সাজে

নিমন্ত্রণের সব অনুষ্ঠানে তো আর একরকম পোশাক পরা যায় না, একেক রকমের অনুষ্ঠানে একেক রকমের পোশাক মানানসই। বিয়ে বাড়ির পোশাক নিশ্চয় শোক সমাবেশে পরা যায় না। কোন অনুষ্ঠানে কী পোশাক পরবেন, তা নির্ভর করে আপনার বয়স আর অনুষ্ঠানের রকমের ওপর। অনুষ্ঠান বুঝে পোশাক পরার নিয়মকানুন নিয়ে লিখেছেন শাহিনুর আলম কলি

একালে কুড়িতে পা মানে হলো ‘টিন’ তকমাটি পাকাপাকি ঝেড়ে ফেলে তরুণী হওয়ার পালা। তারপর একুশ, বাইশ আরেকটু বড় মনে হয় নিজেকে। বড় বোন-ভাবীদের মতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শাড়ি পরার ইচ্ছেটা হয় ভীষণ। এ বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া তরুণীদের নিজের শাড়ির সংগ্রহ সাধারণত কম, আবার অনভ্যস্ত হওয়ায় দাওয়াতে শাড়ি পরে আড়ষ্টতায় ভোগেন অনেকেই। তারুণ্যের উচ্ছলতায় শাড়ির ভারিক্কিও প্রায়ই বেমানান। পঁচিশ ও পঁচিশোর্ধ্ব নারীদের পার্টি পরিচ্ছদের এ দ্বন্দ্ব শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ নিয়ে। পোশাক যাই হোক না কেন—তা হতে হবে জমকালো, দৃষ্টিনন্দন, শালীন।

সাজ

কী পরব, কী পরব

নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচির সঙ্গে মানানসই নয়, এমন সাজ এড়িয়ে যাওয়া বরাবরই উচিত। আবার একেবারে না সাজলেও আপনাকে পুরো অনুষ্ঠানে বেমানান লাগবে, যার কোনোটিই কাম্য নয়। অনুষ্ঠানের ধরন ও সময় সম্পর্কে আগেই জেনে নিন। যদি রাতের কোনো অনুষ্ঠান হয়, তবে সাজটা একটু জমকালো হবে। দিনের বেলা হলে হালকা সাজই উপযুক্ত।

প্রথমেই ঠিক করুন, কোন ধরনের পোশাক পরবেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ি বেছে নেওয়া যেতে পারে। সালোয়ার-কামিজ, ফরমাল শার্ট-প্যান্টও পরতে পারেন। যদি যেখানে আছেন, সেখান থেকেই সরাসরি অনুষ্ঠানে যেতে হয়, তবে আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো। সারাদিন ওই পোশাক পরেই কর্মব্যস্ত দিন কাটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামদানি, ক্রেপ, জর্জেট বা ঐতিহ্যবাহী কোনো শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শিফনের হালকা রঙের শাড়িও মানানসই এ ধরনের অনুষ্ঠানে।

শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফরমাল শার্ট-প্যান্টের সঙ্গে ছোট হালকা গয়না মানানসই। অফিসেও এসব গয়না পরতে পারেন। মুক্তা, হীরা বা পাথরের ছোট কানের টপ পরা যেতে পারে। গলায় চিকন চেইনের সঙ্গে ছোট্ট লকেট বা পেনডেন্ট পরতে পারেন। হাতে ব্রেসলেট বা এক হাতে ঘড়ি কিংবা দুটি চুড়ি পরলে ভালো লাগবে। কেউ যদি ফতুয়া বা কুর্তা পরতে চান, তবে সেটি সিল্ক বা ক্রেপ হলে ভালো দেখাবে। সঙ্গে অবশ্যই ফরমাল প্যান্ট ও জুতা পরতে হবে। আজকাল বাজারে নানা ধরনের পাম্প শু পাওয়া যায় এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরার জন্য।

সাজ

চুল যেমন হলে ভালো হয়

অনুষ্ঠানের আগে আসল ঝক্কিটা বাঁধে চুল নিয়ে। চুল ছোট হলে পছন্দমতো আঁচড়িয়ে নিন। যাওয়ার আগে ব্লো-ড্রাই করতে পারেন। রিবন্ড করা থাকলে চুল স্ট্রেট মেশিন দিয়ে একটু গুছিয়ে নিতে পারেন। আর বড় চুল হলে খোঁপা করে নিন। তবে কোনো অবস্থাতেই চুল যেন এলোমেলো বা খোলা না থাকে। তাই কিছু টিপস।

এখন তরুণীদের খুব পছন্দ সোজা, ঝলমলে চুল। এজন্য চুলটাকে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে হালকা ব্লো ড্রাই করে নিন আগে। হেয়ার সেটিং লোশন স্প্রে করুন। পুরো চুলে স্প্রে ঠিকমতো মাখাতে চুল ভালোভাবে আঁচড়ে নিলেই পেয়ে যাবেন চকচকে সোজা চুল।

ব্লো-ড্রাই করে শাইনিং সেরাম (নানা রকম পাবেন বাজারে) দিন চুলে। তারপর আয়রন করে নিলে হয়ে গেল ঝকঝকে মসৃণ চুল।

কারলিং আয়রন থাকলে চুলে স্পাইরাল স্টাইল করতে পারেন। পার্টির এক দিন আগে শ্যাম্পু করতে হবে এজন্য। ভলিউমাইজার শ্যাম্পু, কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ব্লো-ড্রাই করলে চুলে বেশ ভরাট ভাব আসবে।

সাজ নিয়ে কিছু কথা

তারুণ্যের নিজস্ব সৌন্দর্যে এ বয়সের মেয়েরা এমনিতেই সুন্দর হয়ে ওঠে। পার্টিতে যেতে তাই সঙ্গে দরকার শুধু ফ্যাশনেবল একটা হেয়ার স্টাইল, সঙ্গে হালকা মেকআপ। ঘরেই করতে পারেন এমন কয়েক রকম চুলসজ্জা আর একদম মৌলিক একটি মেকআপের বিষয়ে জানা যাক।

সাজ

মেকআপ

প্রথমে পুরো মুখ, তারপর চোখ ও শেষে সাজান ঠোঁট। ত্বকে দাগ না থাকলে মুখে কোনো ফাউন্ডেশন দেওয়ার দরকার নেই। সরাসরি ব্লাশ-অন হিসেবে জেল ব্লাশার দিয়ে নিন।

ত্বকের দাগ ঢাকতে ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করতে পারেন স্টিক, ক্রিম-টু পাউডার বা ক্রিম-টু ময়েশ্চারাইজার ফাউন্ডেশন। ক্রিম-টু পাউডার ফাউন্ডেশন ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে মেশাতে পারেন। মুখে ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে পাঁচ মিনিট পর ফাউন্ডেশন লাগালে তা ভালো বসবে ত্বকে। এর পরও দরকার হলে লাগাতে পারেন কনসিলার।

এর পর লাগান ক্রিম ব্লাশ-অন। চাইলে শিমার দিতে পারেন ব্লাশ-অনের ওপর শুধু গালের হাড়ে। এক পরত লুজ পাউডারের পোঁচে শেষ করুন ত্বকসাজ।

আনুষঙ্গিক

চুড়িদারের সঙ্গে ফ্ল্যাট জুতা বেশ মানানসই। বৈচিত্র্য আনতে পরতে পারেন নাগরাও। অল্প হিল, কালো জুতা পরা যায় যেকোনো রঙের পোশাকের সঙ্গেই। হালকা রঙের পোশাকে মানাবে অনুজ্জ্বল সোনালি, খয়েরি জুতা। অভ্যস্ত হলে ক্লাচ ব্যাগ নিতেই পারেন। তবে সদ্য তরুণীদের ব্যাগ ঝুলিয়ে চলার অভ্যাস থাকায় হাতলহীন ক্লাচ ব্যাগটিকে ভুলে ফেলে যেতে পারেন কোথাও। তাই তারা পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে হাতে ঝোলান নকশাদার বাহারি ‘বটুয়া’। হাতভরা চুড়ি নয়, কব্জিতে পরুন ব্রেসলেট। কানের দুলটা ভারী হলে কামিজের সঙ্গে গলায় আর কিছু না পরাই ভালো। ভরাট গাল, গোল মুখের মেয়েরা পরুন লম্বা ঝোলানো দুল। আর লম্বা মুখ, খাড়া নাকের অধিকারীরা পরুন ঝুমকা। রিং, বড় গোল দুল মানিয়ে যাবে চাপা গালের মেয়েদের। কামিজের গলাটা ছড়ানো হলে কানে-গলায় বেশ লাগবে পেনডেন্ট। পার্টিতে সোনা, অক্সিডাইজড বাদ; পরুন রুপা, ইমিটেশন, পাথর বসানো মাল্টিকালার, অ্যান্টিক ও কপার কালারের গয়না। রঙ মিলিয়ে হাতে, পায়ের আঙুলে গলিয়ে নিন মানানসই আংটি। খেয়াল রাখুন, পোশাক-জুতা-গয়নার নকশার রঙে সোনালি-রুপালির গরমিল না হয়।