হালচাষের হালখাতা

ব্যতিক্রমধর্মী হালখাতার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের আটঘরিয়া গ্রামে কৃষক নুরনবীর বাড়িতে। এই হালখাতা একজন কৃষকের আর এর গ্রাহকও এলাকার বেশ কিছু সংখ্যক কৃষকের অংশগ্রহণে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) ব্যতিক্রমধর্মী হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে নুরনবী জানান, তিনি কোনো ব্যবসায়ী নন। তিনি একজন কৃষক ও কলের লাঙলের মালিক। ফি বছর বোরো ও রোপা আমন মৌসুমে তার কলের লাঙল দিয়ে এলাকার কৃষকদের জমি বাকিতে চাষ করেন তিনি।

হালখাতায় আসা আটঘরিয়া গ্রামের কৃষক কেতন চন্দ্র দে বলেন, এখানে আমরা যার হালখাতায় এসেছি, তিনি যেমন কৃষক, তেমনই হালখাতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি ব্যক্তিই কৃষক। আমরা বোরো, রোপা আমন ধান আবাদে কৃষক নুরনবীর পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করি। জমি চাষের সময় সার, বীজ, পানি ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হাতে তেমন টাকাপয়সা থাকে না। তাই আমরা বাকিতে হালচাষ করে ধান রোপনের প্রায় দেড় মাস পর টাকা জোগাড় করে হাল চাষের বকেয়া টাকা পরিশোধ করি। আর এই টাকা পরিশোধের জন্য পাওয়ার টিলারের মালিক হালখাতার ব্যবস্থা করে আমাদের মোবাইল ফোনে তারিখ জানিয়ে দেন বলে তিনি জানান।

হালখাতায় কৃষকেরা বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দিচ্ছেন। আর পাওয়ার টিলারের মালিক তাদের মিষ্টি খাইয়ে আপ্যায়ন করছেন।

হালখাতায় বাকি টাকা আদায়ের বিষয়ে মালিক কৃষক নুরনবী বলেন, আমি এবার মোট ১৫০ বিঘা জমিতে হাল চাষ দিয়েছি তার মধ্যে ১৩০ বিঘা জমির ১৩৩ জন কৃষক এক লাখ ১০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পুরো বকেয়া আদায় হবে বলে তিনি আশা করছেন।