লোহাগাড়ায় ফসলি জমিতে ইটভাটা!

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পাহাড়ের মাটি ও কৃষি জমি ইটভাটায় ব্যবহার হচ্ছে। এতে হ্রাস পাচ্ছে কৃষি উত্পাদন। ভূমি অফিসের হিসাব মতে, লোহাগাড়ার বিভিন্নস্থানে ৩২টি ইটভাটা রয়েছে।  উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে, এ উপজেলায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। আর ব্রিকফিল্ড মালিক কর্তৃপক্ষের মতে রয়েছে ৩৬টি।

স্থানীয় সূত্র মতে, লোহাগাড়ায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা রয়েছে। শুধু চরম্বা ইউনিয়নে রয়েছে ২১টি। ইটভাটা করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ও কৃষি বিভাগের অনুমতিপত্র লাগে। এসব ইটভাটায় আদৌ বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। বনাঞ্চলের পাশে, লোকালয়ে ও কৃষি জমিতে এসব ইটভাটা অবস্থিত। তবে প্রায়ই ইটভাটা কৃষি জমির উপর এবং প্রতিটি ইটভাটায় কৃষি জমি লেগেছে প্রায় ৭ একর। ইটভাটায় পাহাড় ও টিলা কাটা নিষেধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম হোসেন জানান, লোহাগাড়ায় বিগত ২ বছরে কৃষি বিভাগ থেকে নতুনভাবে ইটভাটা তৈরির জন্য কোনো আনুমতিপত্র কিংবা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। শুধু তা নয়, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরি না করার জন্য জোরালো প্রস্তাব রাখা হয়। নতুন এলাকার কৃষকদেরও কৃষি জমির টপসয়েল বিক্রি  করতে নিষেধ করা হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ্মাসন সিংহ জানান, লোহাগাড়ায় অবৈধ কোনো  ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারবে না। বনাঞ্চল ও পাহাড় কেটে ইটভাটা তৈরি এবং অনুমোদনবিহীন কৃষি জমি ও কৃষি জমির টপসয়েল ইটভাটায় ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম জানান, লোহাগাড়ার মাটি ইটের জন্য অত্যন্ত টেকসই হওয়ায় পূর্ব থেকে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠেছে। তবে এখানে অবৈধভাবে কোনো ইটভাটা পরিচালিত হতে পারবে না। নতুন করে কাউকে ইটভাটা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। অধিকাংশ ইটভাটা কৃষি জমির উপর। উপজেলায় যে হারে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে পরিবেশ ও খাদ্য উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইটভাটা পরিবেশবান্ধব করা না গেলে মানব স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে।