বেনাপোল চেকপোস্টে স্ক্যানিং মেশিন অচল

বেনাপোল আন্তর্জাতিক  চেকপোস্ট কাস্টমসে চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহূত একমাত্র স্ক্যানার মেশিনটি প্রায় ১০দিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকায় ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি কাজ  মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।  ফলে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মূল্যবান সামগ্রী পাচারের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দেশে পাওয়া যায় না। ফলে মেরামতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তাছাড়া এ মেশিনটি যেখানে স্থাপন করা হয়েছে সেখানে যে পরিমাণ শীতাতপ ব্যবস্থা প্রয়োজন তা নেই। আর এ মেশিনটি সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটানা চলায় বার বার নষ্ট হচ্ছে। এখানে যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশির চাপ খুব বেশি। এই চাপ সামলানোর জন্য অন্তত ২টি স্ক্যানার মেশিন প্রয়োজন। কিন্তু মেশিন একটি থাকায় তার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। এতে মেশিনটি বার বার নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার হওয়াতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে চিকিত্সা, ব্যবসা ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে যাত্রীদের যাতায়াত বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী ভারতে যাতায়াত করছে। চোরাচালানিরাও এ পথকে নিরাপদ রুট ভেবে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী যাত্রীর ছদ্মবেশে পাচার করছে। ধরাও পড়ছে কাস্টম কর্তৃপক্ষের হাতে। বেনাপোল কাস্টমস ও ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস বেশ কিছু পণ্য চালানও আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষার কাজে ব্যবহূত স্ক্যানার মেশিনটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে। হাতে কয়েকটি ব্যাগ তল্লাশি করলেও অধিকাংশ ব্যাগ পরীক্ষা না করেই যাত্রীরা ভারত প্রবেশ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, প্রতি বছর এপথ দিয়ে যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করে তা থেকে সরকার ভ্রমণকর বাবদ প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু কাঙ্খিত যাত্রী সেবা নেই  এখানে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা  গোলাম মোর্তজা জানান, স্ক্যানার মেশিনটি অচল থাকায় পাঁচ হাজার যাত্রীর ব্যাগ হাতে তল্লাশি করা যাচ্ছে না। বিষয়টি কাস্টমসের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তার মূল্য ১২ লাখ টাকা। এর পার্টস দেশে কিনতে পাওয়া যায় না। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।