চৌহালীতে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ভাঙন অব্যাহত

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে কোনোক্রমেই থামছে না নদী ভাঙন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আগ্রাসী যমুনার ঢেউয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত স্থাপনা ভেসে গেছে। বিলীন হয়েছে উপজেলা পরিষদ, থানা ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও। যতটুকু বাকি আছে, তার সুরক্ষার জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন নদী তীরের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছে, বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় অব্যাহত রয়েছে ভাঙন।

চলতি বছরও বর্ষায় কয়েক দফায় যমুনার পানি বাড়া-কমার লেগেই আছে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙনে সম্প্রতি উমারপুর ইউনিয়নের উমারপুর, খাষপুখুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর খাষপুখুরিয়া, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জ, চরবিনানই, চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড় এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে ৫০০ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে অসংখ্য গাছ, ৪০টি দোকান ও ছয়টি প্রাথমিক স্কুলসহ শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে চৌবাড়িয়া বিএম কলেজ, পয়লা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পয়লা দাখিল মাদরাসা, আটটি প্রাথমিক স্কুল, মসজিদ, এতিমখানা ও শত বছরের কবরস্থানসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠান।

‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতিতে নতুন করে আমরা গৃহহীন হয়েছি। যখন ভাঙন তীব্র হয় অল্প কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে চলে যায় আর খবর থাকে না। সময় মতো কাজ শুরু করলে নতুন করে শত শত ঘরবাড়ি আর বিলীন হতো না’
- ভাঙন কবলিতদের অভিযোগ

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, চৌহালীর খাষপুখুরিয়া থেকে চরসলিমাবাদ পর্যন্ত নদী তীর সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। চলতি বছর জুনে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এ প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন। তবে উদ্বোধনের তিন মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি সংস্থা।

ভাঙন কবলিতদের অভিযোগ, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতিতে নতুন করে আমরা গৃহহীন হয়েছি। যখন ভাঙন তীব্র হয়, অল্প কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে চলে যায়। তারপর আর খবর থাকে না। সময়মতো কাজ শুরু করলে নতুন করে শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হতো না।’

2

চৌহালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তিন বছর আগে পৈর্তৃক ভিটেবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর পানি বাড়তে বাড়তে আবারও বাড়ির কাছে চলে এসেছে। এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

বাঘুটিয়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মোল্লা বলেন, ‘দেওয়ানগঞ্জ, চরসলিমাবাদ ভূতের মোড়ের ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় সেটি অপ্রতুল।’

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চৌহালীতে দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন রয়েছে। বন্যার পানি বাড়ার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি, পানি কমে গেলে চলতি বছর অক্টোবরে কাজ শুরু করা হবে।’