শ্রীমঙ্গলে চা বাগান এলাকায় ঝরে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীরা!

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন জটিলতার কারণে সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ সম্ভব হয়নি। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হতে হচ্ছে ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ ও উত্তম পরিবেশের অভাবে বিদ্যালয়সমূহে সঠিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়াসহ পিছিয়ে আছে বিদ্যালয়সমূহের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় উপজেলার বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বশিউক) বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গান্ধীছড়া চা বাগান, সাইফ চা বাগান, সোনাছড়া চা বাগান, খাইছড়া চা বাগান, মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজা ও বিষামণি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়সমূহ জাতীয়করণ হতে  বঞ্চিত হয়।

সরেজমিনে ঘুরে এসব বিদ্যালয়ে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকেই অনুপস্থিত পাওয়া যায়। সুবিধা বঞ্চিত এসব বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর ব্যাপারে অনেকটাই অনীহা প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলার কয়েকটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আবেদন গ্রহণ করে ওই সকল এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন ও চালুর অনুমতি প্রদানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা ও অধিদপ্তরকে সদয় নির্দেশনা প্রদান এবং অবশিষ্ট চা বাগানগুলোতে স্থাপিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ২০১৩ সালের ১৭ জানুয়ারি তারিখে একটি লিখিত পত্রের মাধ্যমে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ।

সাইফ চা বাগান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমা চক্রবর্তী, খাইছড়া চা বাগান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজীব কেওট ও বিষামণি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, বিদ্যালয় জাতীয়করণ নিয়মের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্যাবলীসহ আবেদন জমা দিয়েছি। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত হয়নি।

সোনাছড়া চা বাগান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, মামলাজনিত কারণে আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য আবেদন করতে বিলম্ব হয়। এজন্য শিক্ষা অফিস আমাদের বিদ্যালয়ের আবেদন গ্রহণ করেনি। তবে ওই মামলা ২০১৪ সালেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাস্টার গোলাম মোস্তফা রাজা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝলক দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের নাম ও ভূমি জটিলতার কারণে বিদ্যালয়টি যথাসময়ে জাতীয়করণ সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার জানান, বশিউক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গান্ধীছড়া চা বাগান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দু’টি মামলাজনিত কারণে জাতীয়করণের তালিকা হতে বাদ পড়ে। বাকি বিদ্যালয়সমূহের সকল কাগজপত্র ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান তিনি।