লুণ্ঠিত মালামাল ভাগাভাগি নিয়ে সহযোগীদের হাতে খুন হয় দুই ডাকাত

রাজধানীর তুরাগের দিয়াবাড়ী কাশবনে জোড়া হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই হত্যাকারীকে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত দেশীয় অস্ত্র-ধারালো বটি ও রড। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মনির হোসেন ও  ফরিদ। গত ২০ অক্টোবর রাতে পুলিশ তুরাগ থানাধীন উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর প্লটে কাশবনে ঘেরা স্থান থেকে কামাল হোসেন (২৪) ও ইমন শেখ (২৫) নামে দুই ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কামাল হোসেনের পিতা শেখ জলিল বাদী হয়ে তুরাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম শুক্রবার বিকালে আদাবরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই দিন রাত সাড়ে ১১টায় শনির আখড়া এলাকা থেকে ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেরিয়ে আসে এ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

যে কারণে হত্যা

নিহত কামাল হোসেন ও ইমন শেখসহ গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন ও ফরিদ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তাদের দলে অপর দুই সদস্য হলেন রেজাউল ও আল-আমিন। এদের সবার বাড়ি ফরিদপুরের বিভিন্ন থানায়। রাজধানীর তুরাগের বেড়িবাঁধ, উত্তরা সেক্টর এলাকা এবং ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার কখনো পাকা রাস্তা বা কখনো কাঁচা রাস্তায় চলাচলকারী গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি করতেন তারা। দিনের বেলা তারা কখনো রংমিস্ত্রি, কখনো গাড়ির ড্রাইভার-হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। গভীর রাতে তারা রাস্তায় চলাচলকারী প্রাইভেট কার, সিএনজি ইত্যাদির পথরোধ করতেন। তারপর ধারালো দা, বটি, লোহার রড ইত্যাদি ব্যবহার করে যাত্রীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার লুটে নিতেন। পরে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতেন লুণ্ঠিত মালামাল। এই ভাগাভাগি থেকেই সৃষ্টি হয় কোন্দল। সর্বশেষ ফরিদপুরে একটি ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। তখনই প্রতিশোধ নিতে ফরিদ এবং মনির হোসেন এক পর্যায়ে ভিকটিম কামাল ও ইমনকে হত্যা করে।