ব্যয়বহুল শহরের কথা উঠলেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমেরিকা কিংবা ইউরোপের দেশগুলোর কথা। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে এ বছর এই তালিকায় শীর্ষস্থানটি দখল করেছে এশিয়ার একটি শহর। চীনের হংকং শহর রয়েছে এই তালিকার শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের টোকিও শহর। তৃতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর এবং চতুর্থ স্থানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী শহর সিউল। অর্থাত্ তালিকার প্রথম চারটি শহরই এশিয়ার। গ্লোবাল ট্যালেন্ট বিভিন্ন দেশের শহরগুলোতে বিদেশি শ্রমিকদের ব্যয়ভার নিয়ে করা এক জরিপ থেকে এই তথ্য দিয়েছে।
ব্যয়বহুল শহরের এই তালিকায় ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডের জুরিখ শহর রয়েছে পঞ্চম স্থানে। ষষ্ঠ স্থান, অষ্টম ও দশম স্থানেও রয়েছে যথাক্রমে চীনের তিনটি শহর সাংহাই, বেইজিং এবং শেনজেন। সপ্তম স্থানে রয়েছে তুর্কমেনিস্তানের আসঘাবাট শহরটি। তুর্কমেনিস্তানের এই শহরটি খরুচে শহরের তালিকায় এক প্রকার হঠাত্ করেই উঠে এসেছে। গত বছরও শহরটি ছিল খরচের দিক দিয়ে ৪৩ নম্বর তালিকায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যত্ বাণী করা হয়েছে, ২০১৯ সালে শহরটিতে দ্রব্যমূল্যের মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশে উঠতে পারে। আর নবম স্থানে রয়েছে আমেরিকার জমকালো শহর নিউ ইয়র্ক। অন্যদিকে সস্তা শহরের দিকে দিয়েও শীর্ষে রয়েছে তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিস। উজবেকিস্তানের তাসখন্দ এবং পাকিস্তানের করাচি।
মূলত এসব শহরে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম, বিভিন্ন ধরনের সেবার খরচের তুলনামূলক হিসাব থেকে এই তালিকা করা হয়েছে। জরিপে বিভিন্ন দেশে কফির মূল্য, সিনেমা টিকিটের মূল্য, থাকা-খাওয়ার মাসিক খরচ বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে। মূলত বিভিন্ন শহরে বিদেশি শ্রমিকদের আয় এবং খরচের দিক বিবেচনা করা হয়েছে। এর ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন মানের ধরন এবং প্রকৃতি বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে থাকা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো শ্রমিকদের জন্য বেতন নির্ধারণে এক ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একই সাথে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্যও অনেক ক্ষেত্রে এই তালিকা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।-সিএনএন