বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়ে প্রিফেন্টেইন রোহিঙ্গা সমস্যাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, সহজেই এর সমাধান সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতি এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক বড়ো খেলোয়াড় রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অনেক দেশ এই সমস্যা নিয়ে কথা বলছে এবং কাজ করছে। জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আলেচিত হচ্ছে। কিন্তু ন্যায্যতার সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কাজ করতে হবে। একদিকে মানবিক সহায়তা, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্যোগ। সমানভাবে দুটি উদ্যোগ চালাতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু সৃষ্টির জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক আদালতকে সক্রিয় ও সফল হতে হবে।
কানাডার দূত গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমে কূটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। রাজধানীর বিআইআইএসএস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিকাব সভাপতি রাহীদ এজাজ।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাসিব।
কানাডার হাইকমিশনার বলেন, ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিরাট উদারতার প্রমাণ রেখেছে। বিশ্ব-সম্প্রদায়ের এখন দায়িত্ব হলো এর সমাধানে উপযুক্ত ভূমিকা রাখা।
রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাবার মধ্যেই এর সমাধান নিহিত।
কানাডা শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে বিষয়টি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এ সহায়তায় দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা অগ্রাধিকার পেয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর দূত, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেকেই সরেজমিনে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখে যান।
ডিকাব টক অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার বেনোয়ে প্রিফেন্টেইন বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে কানাডা সদ্য স্বাধীন এই দেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ৪৭ বছরে কানাডা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার ও বিশ্বস্ত বন্ধু।
কানাডায় অবস্থানরত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানো সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে কানাডা ঐতিহাসিকভাবে ফেরত পাঠায় না। এটা কানাডার নীতি।