সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সরকারি খাল দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যক্তি মালিককের খালের উপর স্থাপনা নির্মাণে উপজেলা প্রশাসনের লিখিত অনুমতি দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরের গোলকশাহর বাড়ির পাশে মুরাদনগর-হোমনা সড়কের সঙ্গে ১ নম্বর খাস ক্ষতিয়ানের মুরাদনগর মৌজার ৯৬৪৩ নম্বর দাগের একটি সরকারি খাল রয়েছে। সেই খালের চারিদিকে টিনের বেষ্টনী নির্মাণ করে খালটি ভরাট করে নামে মাত্র প্রায় ৫০ ফুট লম্বা খালের অংশ দখল করে ড্রেন নির্মাণ করছেন প্রণবেশ রায় নামের এক ব্যাক্তি। তবে তার দাবি যাতায়তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আমরা খালের উপর ড্রেন নির্মাণ করছি।

m-3

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি সরকারি খাল। একসময় প্রবহমানও ছিল। তবে অব্যাহত দখল ও দূষণে খালটি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আর দখলদকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। একটু বৃষ্টি হলেরই মাস্টারপাড়া এলাকার প্রায় শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে থাকতে হয়। খালের এই অংশটিও যদি দখলদারদের দখলে চলে যায় তখন মাস্টারপাড়া এলাকাটি স্থায়ী জলাবদ্ধতার তৈরি হবে।

muradnagar, cumilla pc 19-09-2023(3) (1)

অভিযুক্ত প্রণবেশ রায় দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটি সরকারি খাল, আমরা কেন খাল দখল করব! বাড়িতে যাতায়তের সুবিধার্থে আমরা উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই খালের উপর ড্রেন নির্মাণ করছি।

m-2

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী রায়হান চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থেই সরকারি খালের উপরে কালভার্ট নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। আমাদের শর্তের বাহিরে ব্যক্তিস্বার্থে ড্রেন নির্মাণ করলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

muradnagar, cumilla pc 19-09-2023(4)

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনী বলেন, ওই এলাকায় খালের উপর দিয়ে একটি সড়ক রয়েছে। যা সরকারি আইডিভুক্ত নয়। জনস্বার্থে চলাচলের সুবিধার্থে ওই সড়কটি দিয়ে যাতায়তের জন্য কিছু শর্ত সাপেক্ষে নিজস্ব অর্থায়নে খালের উপরে কালভার্ট নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে খাল দখল করে ড্রেন নির্মাণের অনুমতি প্রদান করা হয়নি।