মাঠে একক প্রার্থী রাখতে চায় আওয়ামী লীগ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল-জোট মনোনিতদের বাইরে দলের ৭৯ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। কেউ দলের নির্দেশ অমান্য করে প্রার্থী হলে তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ধরে নেয় আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৭৯ বিদ্রোহী প্রার্থীর ওপর তীক্ষ নজর রাখছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে মহাজোটের একক প্রার্থী পক্ষে নামানোর জন্য গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। চিহ্নিত ৭৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর তালিকা শেখ হাসিনার কাছে গতকাল প্রদান করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত নির্দেশনা দেন বলে দলীয় একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানিয়েছে।

জানা গেছে, হ্যাটট্রিক জয়ের মিশনে কোন বাধা রাখতে চায় না আওয়ামী লীগ।  বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমন করতে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আজ রবিবার থেকে একই আসনে দুই জনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে রেখে বাকি প্রার্থীদের কাছে যাবে হাইকমন্ডের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশনা। একই সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাইকমান্ডের নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেবে দলটি। এক্ষেত্রে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি টিম তৃণমূলে যাবে। এবার বিদ্রোহী প্রার্থী দমাতে কোন আশ্বাস নয় বরং আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলটি। সূত্র জানায়, ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তাদের দল থেকে আজীবন বহিস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সূত্র জানায়, হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ অনেকগুলো বিদ্রোহী প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিবেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে ২৪৭টি আসনে একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ২৬৪টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন জমা দিয়েছে। বাকি ৩৬টি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। ১৭টি আসনে দুইজন করে প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মোট ২৮১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী আছে ১৭টি আসনে। আসনগুলো হলো এগুলো রংপুর-৬; নওগাঁ-৫; নাটোর-১; নড়াইল-১; বরগুনা-১; পটুয়াখালী-২; টাঙ্গাইল-২; জামালপুর-১ ও ৫; কিশোরগঞ্জ-১; ঢাকা-৫, ৭ ও ১৭; চাঁদপুর-১, ২ ও ৪ ও লক্ষ্মীপুর-২।