দিনাজপুরের ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেল সংস্কার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

বহু প্রতীক্ষিত দিনাজপুরের ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেলের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের ডেলটা প্রকল্পের অধীনে এ কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই কিলোমিটার ঘাগড়া ক্যানেল সংস্কার হয়েছে।

দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী জানান, ঘাগড়া খালটি দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বাস টার্মিনালের উত্তর দিকের নিচু এলাকা থেকে শুরু হয়ে বালুবাড়ি, চুড়িপট্টি, বাঞ্চারামপুল, বড়পুল এবং ঘুঘুডাঙ্গা হয়ে পুনর্ভবা নদীতে গিয়ে মিশেছে। আর গিরিজা খালটি দিনাজপুর শহরের কালিতলা সোনাপীর মাজারের পশ্চিমে সর্দারপাড়া হয়ে কুঠিবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের কাছে ঘাগড়া খালের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে কোনো কোনো জায়গায় খাল দুটির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

প্রবীণ উন্নয়ন কর্মী শাহ্ মবিন জিননাহ বলেন, আমরা ছোটবেলায় ঘাগড়া ক্যানেল দিয়ে নৌকা চলাচল করতে দেখেছি। সেই প্রশস্ত খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ফলে বন্ধ হয়েছে পানি নিষ্কাশনের পথ। তিনি বলেন, দিনাজপুর অনেক উঁচু এলাকা। অথচ পানি প্রবাহের রাস্তা না থাকায় ২০১৭ সালের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেবারের বন্যার ভয়াবহতার জন্য ঘাগড়া বেদখল হয়ে যাওয়া কারণটিই মুখ্য বলে মনে করেন তিনি।

দিনাজপুর পৌর মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘাগড়া খাল সংস্কারের জন্য ৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৬০-৭০ ফিট প্রশস্ত ঘাগড়া ও গিরিজা খাল এখন এসে ঠেকেছে ৫-৭ ফুটে। শিগগিরই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরুজুল ইসলাম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দিনাজপুর শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া ঘাগড়া ও গিরিজা খালের অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা নির্ণয় এবং বেদখল হওয়া অংশের ম্যাপ তৈরি করেছি। পাউবো ও পৌরসভার সার্ভেয়ারদের নিয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ইউএনও জানান, ঘাগড়া খালে অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৩৭৫জন এবং গিরিজা খালে ২৪৫ জন।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, কোতোয়ালি হলো দিনাজপুর শহরের প্রাণ। আর এই প্রাণ রক্ষায় ইতিমধ্যে আমরা ঘাগড়া ও গিরিজা খালে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খাল দুটো সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তিনি বলেন, খাল উদ্ধারে কেউ যদি ক্ষতির সম্মুখীনও হয় তাতে তাদের কিছু করার থাকবে না। খাল দুটি সংস্কার করে দুই পাশে হাঁটার রাস্তা তৈরি করে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাইজার রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর ডেলটা প্রকল্পে গিরিজা ও ঘাগড়া ক্যানেল দুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই এক্সক্ল্যাভেটরের মাধ্যমে ক্যানেল দুটি খননের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। সামনে বর্ষা, তাই প্রকল্পের কাজ কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে আবার কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক (তত্কালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক) তাসমিমা হোসেনের উদ্যোগে দিনাজপুরের বালুবাড়ীর এনজিও ফোরাম অডিটরিয়ামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।