উদ্বোধনের আট বছরেও চালু হয়নি মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল

 

নজরুল ইসলাম মুহিব, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার শহরকে যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এবং রাস্তার ওপর যত্রতত্র গণপরিবহনের অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে আসার পরিকল্পনায় আট বছর আগে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল। কিন্তু উদ্বোধনের আট বছর পার হলেও পুরাপুরিভাবে চালু হয়নি মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে যোগিডহর নামক এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র ফয়জুল করিম ময়ূন বাস টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। কিন্তু পরিবহন মালিকদের অনীহাসহ নানা কারণে বাস টার্মিনাল তখন চালু করা যায়নি। পরে জেলা প্রশাসন পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০১০ সালের ১ নভেম্বর থেকে বাস টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। চালুর পর ঢাকা-মৌলভীবাজার, সিলেট-হবিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন বাস এই টার্মিনাল থেকে কিছুদিন চলাচল করে। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই বাসগুলো টার্মিনাল থেকে সরে আবারও পৌরসভার ভেতরের প্রধান রাস্তায় অবৈধ স্ট্যান্ডে চলে আসে। সেই থেকে আজ অবধি টার্মিনালটি আর ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এ টার্মিনাল। অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হয় অবকাঠামো। ব্যবহার হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ইট-বালু রাখার জায়গা হিসেবে। এদিকে, শ্রীমঙ্গল রোডে প্রধান সড়কের দুই পাশে ‘ঢাকা বাসস্ট্যান্ড’ নামে বর্তমানে গড়ে উঠেছে জেলার প্রধান বাসস্ট্যান্ড। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট, ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের।

সরেজমিনে পৌর টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহন ও মানুষশূন্য টার্মিনালটিতে সুনসান নীরবতা। টার্মিনালের পার্কিং এলাকায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজের ইট, বালু, পাথর, বিটুমিনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। তবে নির্মাণসামগ্রী পাহারার জন্য রাতে কয়েকজন শ্রমিক থাকেন। টার্মিনালের মেঝের টাইলস অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কক্ষের কাচের দরজা খোলা। যানবাহন না আসার কারণে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার নামে বরাদ্দ করা কাউন্টার বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাদিক আহমদ জানান, বাস টার্মিনালের ভেতরে বাস ঢোকে না। শুধু হবিগঞ্জ-সিলেট রুটের নির্দিষ্ট বাস রাস্তার মধ্যে একটু সময় থামে। আর কোনো বাস এ টার্মিনালে থামে না। উদ্বোধনের পরপর এই বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় অনেক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছিল কিন্তু চালু না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় তিন একর জায়গার মধ্যে নগর পরিচালনা ও উন্নীতকরণ অবকাঠামো প্রকল্প ও পৌরসভার যৌথ অর্থায়নে এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এতে জমি কেনা, ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে খরচ হয় ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯ টাকা।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ মছচ্ছিল আলী বলেন, টার্মিনাল এমন এক এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি যায় না। চালকেরা যেতে চান না। সাধারণ মানুষও সেখানে যেতে চান না। এই টার্মিনালে নেমে শহরে যেতে আরো ২০-৩০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। কারো সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে পৌর কর্তৃপক্ষ এটি নির্মাণ করেছে, যার ফলে এ অবস্থা।

মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান জানান, ‘আমার পূর্বসূরি মেয়র এটি পরিকল্পিতভাবেই নির্মাণ করেছিলেন। যারা বলছেন এটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে তারা ডাহা মিথ্যা বলছে। এটি ব্যবহার করার জন্য আমি বাসচালক ও মালিকদের অনুরোধ করছি।’