আজ শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। ভারতের মাটিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। ২২ গজের লড়াইয়ের উত্তাপে গা মাখছে ক্রিকেটবিশ্ব। কোন দলের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা, সেই আলোচনাও চলছে। ভারতের আসরে অংশ নেওয়া ১০ দলের শক্তি-দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়েই এই আয়োজন। আজ থাকছে ইংল্যান্ডকে নিয়ে-
বছর যায়, বছর আসে। বিশ্বকাপ যায়, বিশ্বকাপ আসে। কিন্তু ইংল্যান্ডের দুঃখ আর শেষ হয় না। ক্রিকেটের জনক তারা। প্রথম দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজকও। অথচ হতাশা আর আক্ষেপই কেবল সঙ্গী হয়েছে ইংলিশদের। ইতিহাসের সেই ঋণ অবশেষে শোধ হয় ২০১৯ সালে। দেশের মাটির বিশ্বকাপে প্রথমবার শিরোপা উদযাপন করতে পারে ইংল্যান্ড।
কী ভেবেছেন, বিশ্বকাপ জিতেই ভাটা পড়েছে পারফরম্যান্সে? মোটেও না। বরং এখনকার ইংল্যান্ড আরও বেশি ভয়ঙ্কর। বিশ্বকাপ ধরে রাখার সব উপাদানই আছে জস বাটলারের দলের।
অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়া টানা তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছিল। সোনালি যুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল টানা দুই শিরোপা। এবার তাদের পাশে বসার সুযোগ ইংল্যান্ডের। ভারতে সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ইংলিশরা।
চোটের কারণে জোফরা আর্চার ও ফর্মহীনতায় জেসন রয় নেই এবারের আসরে। তাদের অভাব ভোগাতে পারে। তবে বেন স্টোকসের ফিরে আসা বাড়তি রসদ যোগ করেছে দলে। এই অলরাউন্ডার ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপের আগে দল থেকে ডাক পড়লে সাড়া দেন। সিদ্ধান্ত পাল্টে আবারও ফিরেছেন ৫০ ওভারের ক্রিকেটে।
স্টোকসের সঙ্গে ব্যাটিং লাইনআপে আছেন জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, মঈন আলী, ডেভিড মালান, জো রুট, লিয়াম লিভিংস্টোনের মতো দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়। পেস বোলিং ইউনিটটাও ভারসাম্যপূর্ণ। স্পিনে আদিল রশিদ অনেকদিনের ভরসার নাম। বিশেষ করে, বিশ্বকাপ ভারতে হওয়ায় ইংল্যান্ডের সম্ভাবনার পালে হাওয়া আরও বেশি লাগছে।
কারণ আইপিএল। ভারতীয় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের প্রায় সব খেলোয়াড়ই খেলেন। ফলে ভারতের মাঠ সম্পর্কে তাদের ধারণা পরিষ্কার। ফর্ম ও আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা- দুয়ে মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে হট ফেভারিট ইংল্যান্ড।
একনজরে:
অধিনায়ক: জস বাটলার।
কোচ: ম্যাথু মট।
ডাকনাম: থ্রি লায়ন্স।
র্যাংকিং: ৫।
বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১২ বার (১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯)।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন- ২০১৯। রানার্স-আপ- ১৯৭৯, ১৯৮৭, ১৯৯২।
আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ছিল ঘরের মাটিতে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জনক হলেও ততদিনেও ছিল না কোনও বিশ্বকাপ জয়। সেই হতাশা-আক্ষেপ ঘুচানোর মিশনে নেমেছিল ইংলিশরা। এউইন মরগানের হাত ধরে অবশেষে ধরা দেয় শিরোপা। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
কীভাবে বিশ্বকাপে: ওয়ানডে সুপার লিগের সেরা আট দল সরাসরি নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে পায় ভারতের টিকিট।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সূচি
৫ অক্টোবর: নিউজিল্যান্ড (আহমেদাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১০ অক্টোবর: বাংলাদেশ (ধর্মশালা), সকাল ১১টা
১৫ অক্টোবর: আফগানিস্তান (দিল্লি), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২১ অক্টোবর: দক্ষিণ আফ্রিকা (মুম্বাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৬ অক্টোবর: শ্রীলঙ্কা (বেঙ্গালুরু), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৯ অক্টোবর: ভারত (লখনউ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৪ নভেম্বর: অস্ট্রেলিয়া (আহমেদাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৮ নভেম্বর: নেদারল্যান্ডস (পুনে), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১১ নভেম্বর: পাকিস্তান (কলকাতা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
নজরে থাকবেন
বেন স্টোকস: ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড জিতেছিল নাটকীয়ভাবে। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফাইনাল জয়ের নায়ক ছিলেন বেন স্টোকস। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাড়তি মনোযোগ দিতে ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের আগে ঠিকই ফিরেছেন অবসর ভেঙে।
ওয়ানডে অধিনায়ক জস বাটলারের ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি স্টোকস। বোলিং না করার শর্তে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সঙ্গী হয়েছেন ইংল্যান্ডের। সেই ফেরাটা কী দুর্দান্তই না হয়েছে। ওয়ানডের অবসর ভেঙে ফিরেই গড়েছেন রেকর্ড। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন স্টোকস। কিউই বোলারদের সাধারণ মানে নামিয়ে এনে ১২৪ বলে খেলেন ১৮২ রানের ইনিংস। তাতে গড়ে ফেলেন নতুন রেকর্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে এটাই এখন ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
চাপের মুখে সেরাটা বেরিয়ে আসে যার কাছ থেকে সবসময়। সেই খেলোয়াড়ের দিকে অবশ্যই নজরে থাকবে সবার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসটিতে উৎসাহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন স্টোকস।
জস বাটলার: আগের বিশ্বকাপে ছিলেন সহ-অধিনায়ক।
এবার জস বাটলারের কাঁধে নেতৃত্বের দায়িত্ব। এবার তিনি আরও পরিণত। এউইন মরগানের রেখে রাখা দলটা আরও ধারালো করেছেন তিনি। ভারতের মাটিতে যেহেতু বিশ্বকাপ, ফলে বাটলারের দিকে অবশ্যই বাড়তি নজর রাখতে হবে। আইপিএল খেলার কারণে ভারতের কন্ডিশন তার ভীষণ চেনা। আর এখানেই অনেক ম্যাচে তিনি ঝড় তুলেছেন ব্যাট হাতে। এবার বিশ্বকাপে সেটি ফুটিয়ে তোলার অপেক্ষায়।
শক্তির দিক
শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপ
বেন স্টোকস, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার আছেন দুর্দান্ত ফর্মে।
পেস বোলিংয়ের সঙ্গে স্পিন আক্রমণও দুর্দান্ত।
অলরাউন্ডারে ঠাসা দল: মঈন আলী, স্যাম কারেন, ক্রিস ওকস ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই জ্বলে উঠতে পারেন।
আইপিএল অভিজ্ঞতা: দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় আইপিএল খেলেন। তাই ভারতের কন্ডিশন ও মাঠ তাদের চেনা।
দুর্বলতা
বোলিং নিয়েই দুচিন্তা। অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া চোটের কারণে জোফরা আর্চার নেই।
টপ অর্ডারে রান উঠলেও মিডল অর্ডারকে প্রায়ই ভুগতে হয়।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠে নামবে। প্রত্যাশার চাপ পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
বেন স্টোকসের বোলিং পাবে না বিশ্বকাপে।
ভবিষ্যদ্বাণী: চ্যাম্পিয়ন।
ইংল্যান্ড স্কোয়াড: জস বাটলার (অধিনায়ক), বেন স্টোকস, ডেভিড উইলি, স্যাম কারেন, রিস টপলি, ডেভিড মালান, মঈন আলী, মার্ক উড, জো রুট, আদিল রশিদ, গাস অ্যাটকিনসন, হ্যারি ব্রুক, লিয়াম লিভিংস্টোন, ক্রিস ওকস, জনি বেয়ারস্টো।