দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ জনকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ। আহতদের মধ্যে গুরুতর মামুনুর রশিদ ও রাব্বি শেখ নামে দুইজন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, হাবিপ্রবির শেখ রাসেল হলে ৮টি সিট খালি থাকায় রাতে ওই সিটে থাকার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে যান ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন। এ সময় ওই হলের ছাত্রলীগ সভাপতি রুহুল কুদ্দুস জোহার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটপাটকেল নিয়ে উভয় পক্ষ আক্রমণ করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলির ঘটনাও ঘটে।
যাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে তারা হচ্ছেন—মামুনুর রশিদ, রব্বি শেখ, সজিব, সারোয়ার, রেজা, আপন, সৈকত, জয়, সিয়াম, অমিত, নিবিড়, সিধু রায়, ধ্রুব, রাসেল, রাতুল, আব্দুল হালিম, শাহ আলম, হামিদ, তুহিন, সুমন, তিরচন্দ্র, সবুজ, আবু সুফিয়ান, মিলন, সাব্বির আলম, নিরোত্তম, লিখন, রাজিব, জত্রিম কুমার, তুষার, সহিরসহ আরো ১২ জন। মামুনুর রশিদ, রব্বি শেখকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকি ৩৯ জনকে চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ জানান, তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেনি।
প্রক্টর প্রফেসর ড. খালিদ হোসেন জানান, উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গুলির ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা জোরে শব্দ শুনতে পেয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে এটি গুলির নাকি পটকার সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।