গার্মেন্ট ব্যবসার আড়ালে মাদক

রাজধানীতে মেথামফিটামিনসহ (শক্তিশালী আইস মাদক) এক নাইজেরিয়ান নাগরিক গ্রেফতার হয়েছে। তার নাম আজাহ অ্যানাওচুকওয়া ওনিয়ানুসি (৩৮)। উদ্ধার করা হয়েছে আধা কেজি মেথামফিটামিন। যা মাদকসেবীদের কাছে আইস নামে পরিচিত। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানিয়েছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন রেজা।

আইসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক  বলেন, আইস ইয়াবার চেয়ে কমপক্ষে ৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী। একবার আইস সেবন শুরু করলে এ মাদকে নির্ভরতা চলে আসে। ইয়াবার চেয়ে দামও বেশি আইসের।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা জানান, স্টুডেন্ট ভিসায় দুই বছর আগে বাংলাদেশে আসেন নাইজেরিয়ার আজাহ অ্যানাওচুকওয়া ওনিয়ানুসি। বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয়ে  বি ফার্মায় ভর্তি হয়ে একপর্যায়ে গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু করেন। এর আড়ালে তিনি নতুন মাদক আইসের রমরমা বাণিজ্য শুরু করেন। নিষিদ্ধ ‘ডার্ক নেট’-এর সদস্য হয়ে জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশের মাদক বাণিজ্যে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্তত আরো ৭/৮টি দেশে আইসের ব্যবসা চালিয়ে আসা এ নাইজেরিয়ান সর্বশেষ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে আটক হন।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা শাখা) মোসাদ্দেক হোসেন রেজা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজাহ অ্যানাওচুকওয়ার আইস ব্যবসার কথা জানা যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাদক কেনার ফাঁদ পেতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলক্ষেতের হোটেল লা মেরিডিয়ানের পাশ থেকে ৫০ গ্রাম আইসসহ তাকে আটক করা হয়। পরে ভাটারা এলাকার বাসা থেকে আরো ৪৭২ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।

গত ৫/৬ দিন আগে উগান্ডা থেকে আইসের চালানটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় আসে। নাইজেরিয়ায় অবস্থানকারী তার বাবা ও মা অসুস্থ ছিলেন। সম্প্রতি তার মা মারা যাওয়ার পর তিনি দেশে ফেরার চেষ্টায় ছিলেন। সেজন্য তার কাছে থাকা আইস বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তিনি স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। একপর্যায়ে গার্মেন্ট ব্যবসার জন্য তিনি ব্যাংকক, মালয়েশিয়া, ভারত, উগান্ডা, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর যাতায়াত করেছেন। এ ব্যবসাকে সামনে দেখিয়ে আড়ালে তিনি আসলে আইসের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

মালয়েশিয়ায় আইস এক গ্রামের দাম ৭ হাজার রিংগিত। বাংলাদেশে এ মাদকের বাজার ধরার জন্য তা কম দামে অর্থাত্ প্রতি গ্রাম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে ছোট আকারের একটি ক্রেতাশ্রেণিও তৈরি হয়েছে। এ মাদকের ভয়াবহতা বেশি, মৃত্যুঝুঁকি ইয়াবার চেয়েও বেশি। জিজ্ঞাসাবাদে এ নতুন মাদক কেনাবেচায় দেশীয় কয়েকজনের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে মো. মোসাদ্দেক হোসেন রেজা বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর জিগাতলার এক বাসায় আইস তৈরির কারখানার সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। হাসিব মোহাম্মদ মুয়াম্মার রশিদ নামের এক যুবক মালয়েশিয়ায় পড়তে গিয়ে ক্রিস্টাল মেথ বানানো শেখেন এবং দেশে ফিরে গবেষণাগারের আদলে ঐ কারখানা গড়ে তোলেন।