রাঙ্গুনিয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের চরম উত্পাত!

রাঙ্গুনিয়ায় বেওয়ারিশ কুকুরের উত্পাত দেখা দিয়েছে। উপজেলার যত্রতত্র বেওয়ারিশ কুকুর দেখা যায়।  বেপরোয়া ছুটাছুটিতে ভীতিকর পরিবেশ ছাড়াও পথেঘাটে গৃহস্থের পোষা হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ওপর আক্রমণ চালিয়ে ক্ষতিসাধান করে এসব বেওয়ারিশ কুকুরের দল। মানুষের ওপরও আক্রমণ চালায় এসব কুকুর। এতে গ্রামাঞ্চলের মুক্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে কুকুরের কামড়ের চিকিত্সা ও ওষুধ সরবরাহ অপ্রতুল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আহতরা। গত একমাসে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে ২০ জনেরও বেশি লোক পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। এদের মধ্যে শুধু স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে ব্রহ্মোত্তর গ্রামে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। চন্দ্রঘোনা চাষি ফার্ম এলাকায় ১ জন হোসনাবাদ ও পারুয়া ইউনিয়নে ২/৩ জন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর এবং ৩০ অক্টোবর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর গ্রামে ২/৩টি পাগলা কুকুর আক্রমণ চালায়। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সার জন্যে ভর্তি করা হয়। পরে সবাইকে উন্নত চিকিত্সার জন্যে ফৌজদারহাট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় মো. আনোয়ার সিকদার জানান, পাগলা কুকুরের কামরে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ার ব্রহ্মোত্তর গ্রামের মো. সেকান্দরের শিশুকন্যা সাদিয়া আক্তার (১১), একই এলাকার সোনা মিয়া (৬৮), মো. শাহেদ (১৪), কবির আহমেদ (৭৫), মো. সোলায়মান (৫০), স্থানীয় গোপাল শীলের স্ত্রী ঝুলি শীল (৩০), নুরুল হক (৬৫), নূরনাহার বেগম (৫০), শামসুল হক (৫০) ছাড়াও আরও অন্তত ১০ জনকে কামড়িয়েছে বলে জানা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাঈল সিকদার পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৫ জনেরও বেশি এলাকাবাসী আহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এলাকায় পাগলা কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। দুইদিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রামে পাগলা কুকুরের আক্রমণে এতগুলো লোক আহত হওয়ার ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি জানান। এ          বিষয়ে তিনি তার পরিষদ থেকেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।